বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :

রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন কেন

প্রতিনিধির নাম / ১৯১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 4, 2024
রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাবেন কেন

অনেকেই রাতে জেগে থাকেন বা অনেক দেরি করে ঘুমান। কিন্তু রাতে ভালো এবং পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অবিশ্বাস্যভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঘুম আমাদের শরীরকে রিচার্জ হতে সাহায্য করে। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আপনাকে সারাদিনের কাজের জন্য প্রস্তুত রাখে। আমরা যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং ব্যায়ামকে সুস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করি, ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানো। এটি আপনাকে পরের সারাদিনটা ফুরফুরে রাখতে পারে।

আজকাল মানুষের ঘুমের পরিমাণ এবং মান আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। আর এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার। কিন্তু একটি ভালো রাতের ঘুম আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জেনে নিন রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমানোর উপকারিতা-

কম ক্যালরি গ্রহণে সহায়তা করে : একটি ভালো রাতের ঘুম আমাদের কম ক্যালরি গ্রহণ করতে সাহায্য করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা রাতে ভালো ঘুম পায় না বা কম ঘুমায় তাদের ক্ষুধা বেশি থাকে এবং বেশি ক্যালোরি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। এছাড়াও, রাতে ঘুমের অভাব আমাদের ক্ষুধার হরমোনের দৈনিক ওঠানামাকে ব্যাহত করে এবং দুর্বল ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

কর্মক্ষমতা ও মস্তিস্কের কার্যকারিতা বাড়ায় : জ্ঞান, একাগ্রতা, উৎপাদনশীলতা এবং কর্মক্ষমতা মস্তিষ্কের কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে। এবং এই সব ইতিবাচকভাবে ভাল ঘুম দ্বারা প্রভাবিত হয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের কার্যকারিতার কিছু দিককে অ্যালকোহল আসক্তির মতোই প্রভাবিত করতে পারে। আরেকটি গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে ভাল ঘুম সমস্যা সমাধানের দক্ষতা উন্নত করতে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় : ঘুমের মান ও সময়কাল স্বাস্থ্যের ওপর অনেক প্রভাব ফেলে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে রক্তচাপ এবং হার্টের কার্যকারিতা খারাপ হয়। এর ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা রাতে পর্যাপ্ত ঘুমায় না তাদের হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় : রাতে ভালো ঘুম হলে তা আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে পারে। কারণ রাতে কম ঘুম হলে তা রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা হ্রাস করে। এর ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে। যুবকদের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, টানা ৬ রাত ৪ ঘণ্টা করে ঘুমানোর ফলে তাদের ডায়াবেটিসের উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

হতাশা কমায় : মানসিক স্বাস্থ্যের মতোই বিষন্নতা ও হতাশাও ঘুমের ওপর নির্ভর করে অনেকটাই। রাতে ভালো ঘুম হলে তা আপনার হতাশা ও বিষন্নতা কমাতে পারে।

রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম আপনার রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আর ঘুমের ঘাটতি আপনাকে দুর্বল করে দিতে পারে। কিছু মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখা গেছে যে, যারা কম ঘুমান তাদের অন্যদের তুলনায় সর্দি লাগার সম্ভাবনা প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর