অনেকেই কোমর ব্যথায় সমস্যায় পড়ে থাকেন। এই স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগান্তির পরিমাণ কিছুটা বেশি। কারণ কোমর ব্যথায় খুব একটা হাঁটাচলা করা যায় না। বয়স বাড়লে কোমর ব্যথার সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে বর্তমানে মধ্য বয়সের অনেকের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। যারা দীর্ঘসময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তারা কোমর ব্যথায় ভোগান্তিতে পড়েন। আবার অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘসময় শুয়ে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও কোমর ব্যথা বাড়তে পারে। দীর্ঘসময় শুয়ে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ক্রিয়াশীল থাকে না। এতে কোমর ব্যথা উৎপত্তি হয়।
অফিসে দীর্ঘসময় বসে কাজ করলে মেরুদণ্ডের সামনের মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে পেছনের দিকের মাংসপেশি প্রসারিত হয়। এ কারণে দেহে পেশির ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। ফলে মেরুদণ্ডের মাঝের ডিস্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই চাপ থেকে ধীরে ধীরে কোমর ব্যথার উৎপত্তি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কোমর ব্যথার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ক্যানসার, দীর্ঘকাল স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, অস্টিওপরোসিস রোগ থাকলে কোমর ব্যথা হয়। বয়সের কারণে বা বংশগত কারণে যদি হাড়ের ক্ষয় হয়, তখন তাকে লাম্বার স্পন্ডিলাইসিস বলে। অনেকেই কোমর বা পিঠের ব্যথার ঔষধ খেয়ে থাকেন। এতে সাময়িকভাবে উত্তরণ ঘটলেও মূল ব্যথা কিন্তু শরীরের থাকে এবং সময়ে সময়ে এই ব্যথা প্রকাশ পায়।
শরীরে বিভিন্ন কারণে কোমরে ব্যথা হয়। যেমন: মাংসপেশি শক্ত বা দুর্বল হয়ে গেলে। আবার শরীরের ওজন বেড়ে গেলে এবং ভারী কিছু বহন করলে।
আসুন জেনে নিন, কোমর ব্যথা থেকে কীভাবে দূরে থাকবেন:
১. চেয়ার বা অন্য যে কোনো জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে থাকবেন না।
২. মাঝে মাঝে চেয়ার থেকে উঠুন আর কিছুক্ষণ হাঁটুন।
৩. প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করুন। এতে আপনার পেশি ক্রিয়াশীল থাকবে।
৪. নরম ফোম ম্যাট্রেস বা বিছানায় ঘুমাবেন না।
৫. কোমর ব্যথা এড়াতে সঠিক ভঙ্গিতে বসতে হবে।
৬. অতিরিক্ত ওজনের জিনিস কম তুলবেন।
৭. নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
৮. বরফের সেঁক দিলে অনেক সময় কোমর ব্যথায় উপকার মেলে।
৯. কোমর ব্যথা হলে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। প্রয়োজনে নিজের সব কাজ থেকে ছুটি নিন।
১০. এরপরেও কোমর ব্যথা বেশি অনুভূত হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।