সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৩ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো প্রকল্প থাকবে না : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

প্রতিনিধির নাম / ২২১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 19, 2024
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো প্রকল্প থাকবে না : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো প্রকল্প আর থাকবে না বলে জানিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, নতুন যে প্রজেক্টগুলো আসবে সেগুলো একনেকে যাওয়ার আগে আপনাদের বিচার বিবেচনা করে দেখতে হবে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি এখন অনেক বেশি আমাদের খরচ কমাতে হবে। প্রকল্প গ্রহণে সেসব বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক সরকারের আমলে অনেক উদ্দেশ্য প্রণোদিত প্রকল্প থাকে। এখন এসব আর থাকবে না।

মেগা প্রকল্পের সমালোচনা করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ঠিকাদারদের স্বার্থে বড় (মেগা) প্রকল্প নেয়া হয়েছে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নেয়া হয়নি। এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এগুলো নিয়ে এগোবো বা এগোবো না। মেগা প্রকল্প বা বড় প্রকল্পের বিষয়ে কোনো নীতি নাই। এগুলো নির্ভর করবে করবে কোন পর্যায়ে আছে। প্রকল্পের বিষয়ে সময় একটা বড় জিনিস। এটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিছু খরচ হয়ে গেলেই প্রকল্প শেষ করতে হবে বিষয়টা এমন না। কিন্তু যৌক্তিক অর্থনৈতিক বিবেচনা হলো কত খরচ করেছি বিষয়টা এটা না বাকি কাজ করতে কত লাগবে এটা বড় বিষয়। পুরো প্রকল্প থেকে কত সুবিধা পাবো এটাই বিষয়। প্রকল্পে লাভ ক্ষতি দেখতে হবে। কিছু খরচ হয়ে গেছেই বলেই মানসিক চাপ থাকবে প্রকল্প শেষ করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। এটা অর্থনীতির যুক্তিতে চলে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে যেসব প্রকল্প একনেকে যাওয়ার জন্য অপেক্ষমান আছে, সেগুলো আবারও পর্যালোচনা করা হবে। সেই সাথে জিডিপি বাড়ানোর চেয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বা যেগুলো একনেকে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে, সেগুলো আবার পর্যালোচনা করা হবে। কারণ, অনেক প্রকল্পের নকশা ও ব্যয়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা আছে। অনেক প্রকল্প অনেক কম খরচে শেষ করার সুযোগ আছে। কিন্তু মূল্যায়ন ও দক্ষতার অভাবে এগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। যেসব প্রকল্প এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে, সেখানে জনবল নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ে সেগুলোকে কার্যকর করতে হবে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এমন সময়ে এসেছে, যখন অনেক সংস্কার দরকার। এখানে ব্যয় সংকোচ করতে হবে। ব্যয় সংকোচ করতে হলে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি কাটছাঁট করাই সহজ পথ। পাশাপাশি অপচয় রোধে কাজ করতে হবে। দাতা সংস্থাদের ঋণের বিশাল অর্থ পাইপলাইনে আছে, এগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। এক ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। এগুলো আবার মূল্যায়ন করে ছাঁটাই করতে হবে।

তিনি বলেন, চলমান যেসব প্রকল্প প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, ব্যয়ের তুলনায় যেগুলোর অর্থনৈতিক সুবিধা কম, সেগুলো বন্ধ করা উচিত। অবকাঠামো খাতের প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণ ঠিকাদার ও রাজনৈতিক যোগসাজশে দুর্নীতি। সেই সঙ্গে নকশার দুর্বলতাও আছে। এ দেশের সড়ক-মহাসড়কের প্রকল্পে বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে খরচের নজির আছে। বছরের পর বছর প্রকল্প পড়ে থাকতে পারে না। সামগ্রিক অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় প্রকল্প পুনরায় মূল্যায়ন গুরুত্ব পাবে। সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যাতে করে মূল্যস্ফীতি আর না বাড়ে।

কর্মসংস্থান বাড়ানোকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, জিডিপি বাড়ানোর চেয়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোকে গুরুত্ব দিতে হবে। আগে বিদেশি ঋণের দায়, অর্থনৈতিক সুবিধা বিবেচনা না করে অনেক বড় প্রকল্প করা হয়েছে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর