মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দিল্লিতে মেয়ের সঙ্গে থাকছেন হাসিনা, ঘুরছেন পার্কে : ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৯২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : September 19, 2024
দিল্লিতে মেয়ের সঙ্গে থাকছেন হাসিনা, ঘুরছেন পার্কে : ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

দিল্লিতে মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সাথেই আছেন শেখ হাসিনা। এমনকি দিল্লির পার্ক লোদি গার্ডেনে ঘুরতে দেখা গেছে তাকে।

বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

সায়মা ওয়াজেদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিল্লিভিত্তিক পদে নিয়োগ পান। কিন্তু শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সায়মা ওয়াজেদ মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি। মায়ের দেখা পাননি এ নিয়ে একটি পোস্টও দিয়েছিলেন সেসময়।

এদিকে হাসিনার আশ্রয়ের কথা স্বীকার করলেও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান বা অন্যান্য বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখে চলেছে এখনও ভারত। তবে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমস দাবি করেছে শেখ হাসিনা ভারতীয় সরকারের একটি সেফ হাউসে রয়েছেন। তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সাথে থাকছেন তিনি।

তবে এ প্রতিবেদন এটি পরিস্কার করেনি যে সায়মা ওয়াজেদ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত থেকে তার মায়ের সঙ্গে আইনগতভাবে থাকতে পারেন কিনা । এ প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘শেখ হাসিনা কোথায়’ ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট যখন বিক্ষোভকারীরা শেখ হাসিনার ঢাকার বাসভবনের দিকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিল, তার মধ্যেই তিনি পদত্যাগ করেন এবং সামরিক বিমানে করে ভারতের গাজিয়াবাদের কাছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে যান।

নরেন্দ্র মোদির সরকার পরে নিশ্চিত করে, শেখ হাসিনা ভারতে আছেন। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য না দেয়া হলেও, থেমে থাকেনি আলোচনা।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাত্রার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে, ভারতের আলোচক শ্রেণির অনেক সদস্য ব্যক্তিগতভাবে দাবি করেছেন, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারত সরকারের একটি সেফ হাউসে রয়েছেন; থাকছেন মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের সঙ্গে, যিনি গেল ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দিল্লিভিত্তিক আঞ্চলিক পদে চাকরি নিয়েছেন।

এমনকি শেখ হাসিনাকে তার দলবলের সঙ্গে দিল্লির অন্যতম অভিজাত পার্ক, লোদি গার্ডেনে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে শেখ হাসিনার শীর্ষ বিদেশি সমর্থক মোদি সরকার এখনও এই বিষয়ে নীরবতা বজায় রেখেছে। দিল্লির দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলো বেশিরভাগই এমন দাবিও করা বন্ধ করে দিয়েছে যে- ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারা শেখ হাসিনার প্রথম সাক্ষাৎকার পাবেন।

এদিকে, শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে (প্রত্যর্পণ) এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবিও দিন দিন জোরালো হচ্ছে বাংলাদেশে।

তবে সাবেক ও বর্তমান অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলেও, সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারে ভারত।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, ভারতের সাথে (স্বাক্ষরিত) প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আমরা তাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি জানাতে পারি। আপাতত, আমরা আশা করি ভারত তাকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা ঘটাতে দেবে না, কারণ তিনি মিথ্যা ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূস নিজেই বলেছেন, ‘বাংলাদেশ তাকে (হাসিনাকে) ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত ভারত যদি তাকে রাখতেই চায়, তবে এক্ষেত্রে শর্ত থাকবে— তাকে চুপ থাকতে হবে।’

পলাতক আঞ্চলিক নেতাদের আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে ভারতের। দালাই লামা ১৯৫৯ সালে চীনের তিব্বত দখলের পর পালিয়ে ভারতে বসতি স্থাপন করেন। যদিও তিনি রাজনৈতিক বিষয়গুলো (ভারত ভিত্তিক) একটি বেসামরিক নির্বাসিত প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এছাড়া তিব্বতের আধ্যাত্মিক এই নেতা সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। এই পদক্ষেপে বেইজিং বিক্ষুব্ধ হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের সম্মতি ছাড়া এসব কিছুই ঘটত না।

এছাড়া আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহর পরিবারও ১৯৯২ সালে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। তার স্ত্রী ফাতানা নাজিব এবং সন্তানরা এখনও তাদের বেশিরভাগ সময় ভারতে কাটায় বলে জানা গেছে।

এর আগে শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবারের অধিকাংশকে ঢাকায় অভ্যুত্থানে হত্যা করার পর শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা ১৯৭৫ সালের পর বেশ কয়েক বছর ভারতে আশ্রয়ে ছিলেন।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং সরকারের সময় দায়িত্বপালন করা সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন বলেছেন, “প্রতিবেশী দেশ থেকে ভারতে পালিয়ে আসার অনেক নজির রয়েছে। আমরা সবসময় তাদের (পালিয়ে আসা নেতাদের) থাকার অনুমতি দিয়েছি এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা আমাদের ইচ্ছাকে সম্মান করে রাজনৈতিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থেকেছে।”

শেখ হাসিনা ভারতের রাজনৈতিক স্পেকট্রামজুড়ে ব্যাপকভাবে সমর্থন পেয়ে থাকেন। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে তাকে “ইসলামপন্থি চরমপন্থার” বিরুদ্ধে নিরাপত্তার উপায় বা বাঁধ হিসাবে দেখা হয় এবং ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তার প্রয়াত পিতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে হাসিনার অবস্থানের সংবেদনশীলতার অর্থ হচ্ছে— অতিসতর্কতার কোনও আবরণ আপাতত এই বিষয়টিকে ঘিরে থাকতে পারে এবং সেটিও আবার নয়াদিল্লির ইচ্ছায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর