শরীর সুস্থ রাখতে আর মন তরতাজা রাখতে প্রাণ খুলে হাসার বিকল্প নেই। আনন্দে বেঁচে থাকার এই মূলমন্ত্রটি যুগ যুগ ধরে শুনে আসছে সবাই। অবশ্য বিশেষজ্ঞরা উল্টো কথাও বলে থাকেন। তাদের মতে, কেবল হাসলেই হয় না, মন খুলে কাঁদতেও হয়। এতে মন ভালো থাকে।
মনের কষ্ট মনে চেপে না রেখে হালকা কাঁদলে মনের ওপর চাপ কমে। কান্না কি কেবল মনের ওপর চাপ কমায়? গবেষণা বলছে, ঘড়ি ধরে নির্দিষ্ট সময় কাঁদলে মেদও নাকি ঝরে। এছাড়াও একাধিক উপকারিতা রয়েছে কান্নার। কী সেগুলো? চলুন জেনে নিই-
মানসিক চাপ ও অনিদ্রা দূর করে
অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে মানুষের শরীরে লিওসিন এনকেফেলিন ও প্রোলাকটিন-এর মতো কিছু রাসায়নিক জমা হয়। এতে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার চাপ বেড়ে যায়। কাঁদলে এসব অতিরিক্ত চাপ কমে যায়। মানসিক চাপের ফলে অনেকেরই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। চাপ কমলে ঘুমের সমস্যাও দূর হয়। এছাড়া দেখা গেছে কাঁদার সময় আমাদের শরীরে কিছু হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। ফলে দ্রুত ঘুম আসে।
মন ভালো করে
গবেষণা অনুযায়ী, শরীরে বেশি মাত্রায় ম্যাঙ্গানিজ জমলে উদ্বেগ, অস্বস্তি, রাগ-ক্ষোভ বেড়ে যাওয়াসহ আবেগজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। কেঁদে ফেলতে পারলে এর মাত্রা কমতে থাকে। ফলে মন হালকা হয়।
চোখের ভালো রাখে
চোখের পানি এক ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক। এই পানি চোখের মণি ও পাতা ধুয়ে পরিষ্কার করে। চোখকে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এতে দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়। এছাড়াও চোখের পানিতে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস দূর করার উপাদান থাকে। দূষণের ফলে চোখে জীবাণু বাসা বাঁধতে পারে। চোখের জলে থাকা আইসোজাইম এই সব জীবাণু সহজে এবং দ্রুত দূর করে।
শিশুদের ফুসফুসের ক্ষমতা বাড়ায়
মাতৃগর্ভে শিশুর শরীরে আম্বিলিক্যাল কর্ডের মাধ্যমে অক্সিজেনের প্রবেশ করে। কিন্তু জন্মের পর শ্বাস নিতে হয় নিজেকে। তাই শিশুর কাঁদাটা খুব জরুরি। এর ফলে শিশুর ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছায় আর ধীরে ধীরে তা কাজ করতে শুরু করে।
মেদ ঝরে
চিকিৎসা বিজ্ঞানী উইলিয়াম ফ্রের দাবি, সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে কাঁদলে ওজন কমে। কারণ কাঁদলে কর্টিসল নামের এক হরমোন প্রচুর পরিমাণে নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মেদ কমাতে সাহায্য করে।