নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে টিভি বা নিউজমিডিয়া ব্যর্থ ছিল। এটা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলছে। নতুন করে যখন আবার কেউ ব্যর্থ হয়, সেই মেমোরি চাঙ্গা দিয়ে উঠে। এর ফলে অনেকে প্রটেস্ট করেন, অনেকে মার্চ করেন। আপনারা তখন বলেন মব তৈরি হচ্ছে।
শনিবার (৫ জুলাই) এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, কথা হলো যারা সাড়ে ১৫ বছরে এফেক্টেড হয়েছে তার তো প্রটেস্ট করার অধিকার আছে। এই সাড়ে ১৫ বছরে সংবাদমাধ্যমের যে ব্যর্থতা ছিল, তা চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা করেছি? কোনো পত্রিকা বা টিভি স্টেশন বলেছে কি না?
আজকে যারা দোসর বলে প্রটেস্ট করছে, তা আগের ব্যর্থতার কারণে বলে মনে করেন তিনি। প্রেস সচিব বলেন, আমরা কিন্তু গত ১৫ বছরের জার্নালিজম নিয়ে আলাপ করছি না। সেটা নিয়ে আলাপ হওয়া উচিত।
মিডিয়াকে চাপ না দিতে গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘তবে ভুল তথ্য প্রচার করলে তা অবগত করতে পারে,’ বলেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকরা বিগত সরকার আমলে সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিলো। এই নিয়ন্ত্রণ থেকে বের হতে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষা করার চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এর থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোনও এজেন্সি যাতে গণমাধ্যমকে ভয় দেখাতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বর্তমানে গণমাধ্যম স্বাধীন এবং এতে সরকার ন্যূনতম হস্তক্ষেপ করছে না। এসময় সাংবাদিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার কথাও বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
প্রেস সচিব বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে নতুন যে আইন এসেছে, তা কোনোভাবেই প্রেস ফ্রিডমে হস্তক্ষেপ করে না। এই কয়মাসে সরকার চেয়েছে কোনো সিক্রেট এজেন্সি যেন সাংবাদিকদের ফোন না দেয়। ভুল সংবাদ হলে তা বলার আলাদা উপায় রয়েছে, হুমকি বা গুমের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসাই লক্ষ্য।
সাবেক সরকারের সময় সাংবাদিকতা যে ব্যর্থতার মধ্যদিয়ে গেছে, সেটি স্বীকার করে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে যারা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের প্রতিবাদের অধিকার আছে। জাতিসংঘকে অনুরোধ করেছি বাইরের এক্সপার্ট দিয়ে ওই সময়ের সাংবাদিকতা মূল্যায়ন করতে।