বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
মৌমাছি বা বোলতার হুল ফুটলে যে ভুল হতে পারে প্রাণঘাতী ইসবগুল নাকি চিয়া সিড, পেটের যত্নে কোনটি বেশি উপকারী? সর্দি-কাশি ভেবে বসে থাকবেন না, যে লক্ষণ নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্পেইন নিয়ে কনটেন্ট তৈরির আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৬ শিশুর ‘কোন ডিসেম্বরে আসবেন, ক্লিয়ার করেন’, শেখ হাসিনাকে দুলু স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

গণহত্যার জন্য শুধু শেখ হাসিনা নয়, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 9, 2025
গণহত্যার জন্য শুধু শেখ হাসিনা নয়, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

গণহত্যার জন্য শুধু শেখ হাসিনা নয়, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৯ জুলাই) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুসকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান, বিশেষ করে শেখ হাসিনা রেসপন্সিবল ফর দ্য কিলিং অব থাউজেন্ড অব পিপল। আওয়ামী লীগের সবচেয়ে রোষানলের শিকার বিএনপি। আর সর্বশেষ গণহত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন শেখ হাসিনা। গণহত্যার জন্য শুধু শেখ হাসিনা নয়, দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগেরও বিচার হওয়া উচিত।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, আপনারা খুব ভালো করে জানেন, আওয়ামী লীগের হত্যা, নির্যাতন, গুম, খুনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম আমাদের দল। আমি নিজেও ১১২টা মামলা এবং ১৩ বার জেলে গেছি। আমরা সব সময় মনে করি, যে সমস্ত রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদের পক্ষে থাকবে, ফ্যাসিবাদের কায়েম করবে, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদের পক্ষে কাজ করেছে তাদের প্রতিটি ব্যক্তির শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।

গণহত্যার বিচার নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, গণহত্যার বিচার শুরু হয়েছে, এর সঙ্গে যারা যেভাবে জড়িত তাদের প্রত্যেকে শাস্তির আওতায় আসবে। যারা বিগত দিনে ফ্যাসিবাদকে মদদ দিয়েছে, ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে সহযোগিতা করেছে তাদের প্রত্যেকেই গণহত্যার বিচারে আওতায় আনা হবে। গণহত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে জড়িতরা কেউ ছাড় পাবে না।

নির্বাচন ও সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব বলেন, নির্বাচন আর সংস্কার কখনো সাংঘর্ষিক নয়। দেশের জনগণ নির্বাচন চায়, আর যারাই নির্বাচন পেছানোর কথা বলছেন তাদের আরও ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

গণতন্ত্রে বিএনপির ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি যদি কেউ থাকে সেটা বিএনপি। সবচেয়ে বেশি লড়াই যদি কেউ করে সেটা বিএনপি। বিএনপিই বাংলাদেশে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছে।

এ সময় তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে সঠিক ট্র্যাকে উঠানো। যত দ্রুত সেটা উঠানো যাবে ততই মঙ্গল। সুতরাং যারা মনে করেন যে নির্বাচন প্রয়োজন নেই, আমার মনে হয় তারা আবার চিন্তা করবেন। নির্বাচন প্রয়োজন জনগণের জন্য। একটা নির্বাচিত সরকার দরকার, যে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সেই কারণেই আমরা বলছি যে সংস্কারগুলো হচ্ছে প্রত্যেক সংস্কারের বিএনপি অংশ নিচ্ছি। আর এ সংস্কারের দাবি বিএনপিই তুলেছিল সবার আগে। সুতরাং সংস্কার এবং নির্বাচন এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

পরে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে অসুস্থ শিল্পী ফরিদা পারভীনকে দেখতে যান মির্জা ফখরুল এবং তার চিকিৎসার জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি ফরিদা পারভীনকে ‘লালন সংগীতে অদ্বিতীয়’ শিল্পী হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকারের প্রতি তার সুচিকিৎসার জন্য বিশেষ বোর্ড গঠন এবং প্রয়োজনে বিদেশে সর্বোচ্চ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

এ সময় বিএনপি সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব, জাসাস সভাপতি হেলাল খান এবং সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রুকনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ও জিয়া পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক ডা. সিরাজউদ্দিনকে দেখতে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর