বরিশাল জেলা প্রতিনিধি :
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা উপভোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি পবিত্র প্রক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা উপভোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জনে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন দেশের রাজনৈতিক সংকটকালেও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কো-চেয়ারম্যান ডা. জোবাইদা রহমান জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন।
তিনি বলেন, রাজনীতি কেবল ক্ষমতা ভোগ করার বিষয় নয়, এটি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের একটি মাধ্যম। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোর সামাজিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে। প্রমাণ করতে হবে রাজনীতি কেবল ক্ষমতা ভোগ করার প্রক্রিয়া নয়। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যায় বা যেতে চায়, তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটা প্রমাণ করেছেন। এ সময় জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের তৎপরতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বরিশাল সফর মূলত বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করেই। প্রধানমন্ত্রী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও দক্ষিণাঞ্চলের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এ অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলবেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রচলিত ধারার রাজনীতির বাইরে উৎপাদনমুখী ও জনকল্যাণভিত্তিক রাজনীতির ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। খাল খনন, সবুজায়ন এবং মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনকে রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত করেছিলেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও সামাজিক কর্মসূচি, রাজপথের আন্দোলন এবং বুদ্ধিজীবীদের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মামুন অর রশিদ এবং ক্যাম্পাস ছাত্রদল সভাপতি মোশাররফ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা। পরে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের সঞ্চালনায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশিদের সভাপতিত্বে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।