বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০৬ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চাকরি ফেরত পাচ্ছেন ২৭ বিসিএসের বঞ্চিত ১১৩৭ জন

প্রতিনিধির নাম / ১০০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : February 20, 2025
চাকরি ফেরত পাচ্ছেন ২৭ বিসিএসের বঞ্চিত ১১৩৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

২৭তম বিসিএসে নিয়োগবঞ্চিত এক হাজার ১৩৭ জনের চাকরি ফেরত দিতে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তাদের পৃথক তিনটি আপিল মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর পর চাকরি ফিরে পাচ্ছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।

আবেদনকারীদের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন গণমাধ্যমক বলেন, এক–এগারোর সরকারের সময় ২৭তম বিসিএসে দ্বিতীয়বারের মতো মৌখিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১ হাজার ১৩৭ জন চূড়ান্ত সুপারিশের পর চাকরিতে প্রবেশ করবেন এমন অবস্থায় ওই সিদ্ধান্ত হয়। পরে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়ে মামলা হয়।

এই আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দ্বিতীয়বারের মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করেন। অপর একটি বেঞ্চ দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা নেয়া বৈধ বলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয়বারের মতো মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারপক্ষ পৃথক লিভ টু আপিল করে। এরপর লিভ টু আপিল পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করে ২০১০ সালে আপিল বিভাগ রায় দেন। এই রায়ে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা নেয়াকে সঠিক বলা হয়। তবে আপিল বিভাগের ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনের পক্ষে ১৪০ জন পৃথক তিনটি আবেদন করেন।

আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন বলেন, দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ছিল না। এমনকি দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার বিষয়টি পিএসসি আইন ও বিধিতে নেই।

সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করেন। প্রথম রায়ের বিরুদ্ধে নিয়োগবঞ্চিত ২৫ জন আপিল বিভাগে দুটি লিভ টু আপিল করেন। দ্বিতীয় রায়ের বিরুদ্ধে সরকার তিনটি লিভ টু আপিল করে। এ ক্ষেত্রে ২০৫ জন হাইকোর্টে রিট করেছিলেন। কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে আপিল বিভাগ সরকারের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে ২০১০ সালের ১১ জুলাই রায় দেন।

সংশ্লিষ্ট নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি ২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ওই বছরের ৩০ মে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ওই বছরের ১ জুলাই প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে। পরবর্তীতে একই বছরের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ২২৯ জন উত্তীর্ণ হন। পরে তাদের চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ তিনটি লিভ টু আপিল আবেদন দাখিল করে, যা কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেন আপিল বিভাগ। এরপর বাতিল হওয়া ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা আপিল বিভাগের রায় রিভিউ চেয়ে আবেদন করেন। ৭ নভেম্বর আপিল বিভাগ রিভিউ আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য গ্রহণের আদেশ দেন। এর ফলে নিয়োগবঞ্চিত রিভিউ আবেদনকারীদের আইনি লড়াইয়ের নতুন পথ উন্মুক্ত হয়। অবশেষে বুধবার ওই আবেদনের শুনানি শেষে রায়ের দিন ধার্য করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার রায় দেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর