বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন
Banner

শতকোটি টাকা খরচের পরও কেন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দুই সিটি?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২৩৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 3, 2024
শতকোটি টাকা খরচের পরও কেন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দুই সিটি?
ফাইল ছবি

বছরে শতকোটি টাকা খরচ আর ভ্রাম্যমাণ আদালতের জেল-জরিমানার পরও মশক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ দুই সিটি করপোরেশন। কীটনাশকের মান নিয়ে প্রশ্ন রাজধানীবাসীর। তবে কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, কীটনাশকের প্রয়োগবিধি সঠিকভাবে না হওয়ার কারণেই মিলছে না ফল।


এডিস নামক এ শত্রু বিনাশে প্রথমে হাতিয়ার হিসেবে সামনে আসে কীটনাশক। দিনের পর দিন একই কীটনাশক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। করা হয় কীটনাশক পরিবর্তন। আসে পরিবেশবান্ধব বিটিআই। কিন্তু কিছুতেই যেন পেরে ওঠা দায়।


শুধু কীটনাশকই নয়, মানুষজনকে সচেতন ও মশক নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা বাড়াতে একইসঙ্গে চলে ভ্রাম্যমাণ আদালতও। করা হয় জেলা-জরিমানা। কিন্তু কিছুতেই যেন মশার সঙ্গে পেরে ওঠা দায়।
 

মশক নিয়ন্ত্রণে সবশেষ অর্থবছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাজেট ছিল ১৫২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। গত ১২ বছরে মশা মারার এই আয়োজনে খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এত কিছুর পরও মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না আসার পেছনে কীটনাশক প্রয়োগ পদ্ধতির গলদকে দায়ী করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। তবে সর্বোচ্চ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে কীটনাশক প্রয়োগের দাবি নগর কর্তৃপক্ষের।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) অ্যান্টোমলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ‘কোনো মানুষ যদি রোগাক্রান্ত হয় তার রোগকে সারাতে যত বড় ডাক্তারই আমরা দেখাই, যত ভালো ওষুধই আমরা কিনে নিয়ে আসি, সেটা সঠিকভাবে ব্যবহার বা সেবন যদি না করে তাহলে যেমন রোগ সারবে না; তেমনি আমরা যত ভালো ও দামি কীটনাশকই নিয়ে আসি না কেন, এটার প্রয়োগবিধি যথাযথ না হলে মশার ঘনত্ব কমবে না। উল্টো বাড়বে।

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমি যে লিথাল ডোজে (একটা পদার্থের সর্বোচ্চ যে পরিমাণ কোনো প্রাণীর মৃত্যু ঘটাতে পারে) দিচ্ছি, সেটা সাব লিথাল ডোজ হয়ে গেলে মশার আশপাশে মশার যে শত্রু আছে সেগুলো মরে যাবে। তখন মশা দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। কারণ, মশাকে ঘায়েল করার মতো প্রকৃতিতে কেউ থাকবে না।’

অর্থাৎ প্রয়োগবিধি সঠিকভাবে না হওয়ার কারণেই শতকোটি টাকা খরচ, জেল-জরিমানার পরও মশাকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বলেই মত দেন নিপসমের অ্যান্টোমলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার।
 

যদিও ওসব কথা উড়িয়ে দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রি. জে. ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘কোনো ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানোর আগে কর্মীরা যখন মিক্স করে সেটা ঠিক আছে কি না, বা প্রয়োগবিধি ঠিক আছে কি না, সেটা দেখার জন্য আমাদের এন্টোমলজিস্টরা সকাল-বিকাল পর্যবেক্ষণ করছে। ফলে এখানে কোনো ত্রুটি আছে বলে মনে হয় না।’

মশক নিধন এককভাবে বিশেষ কোনো সংস্থার কাজ নয়, প্রয়োজন জনসম্পৃক্ততা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর