বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :

লিভারের উপকারের জন্য যা খাবেন

প্রতিনিধির নাম / ২২১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 23, 2024
লিভারের উপকারের জন্য যা খাবেন

এমন কিছু খাদ্য এবং জীবন যাপনের অভ্যাস আছে যেগুলো আমাদের অজান্তেই লিভারের বড়ধরনের ক্ষতি সাধন করছে। লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রু মদ। তেল-চর্বি এবং ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবারও লিভারের ক্ষতি করে। আপনার লিভারের আকার যদি ইতিমধ্যেই বেড়ে গিয়ে থাকে, ফ্যাটি লিভার হয়ে থাকে বা এসজিপিটি ও এসজিওটির মতো মৌলিক লিভার পরীক্ষায় কোনো গণ্ডগোল ধরা পড়ে থাকে তাহলে আপনাকে এখনই সতর্ক হতে হবে। আপনার লিভারকে এর স্বাভাবিক আকার ও স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দিতে হবে।

লিভার বেশ বড় একটি অঙ্গ। ফলে এটির ক্ষয়-ক্ষতি হতে যেমন দীর্ঘ সময় লাগে তেমনি এটি ভালো হতেও দীর্ঘ সময় লাগে। তবে একবার যদি সিরোসিস হয়ে যায় তাহলে লিভার ভালো করা কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং খুব বেশি দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আপনার জীবন-যাপন ও খাদ্যাভ্যাসে মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনুন লিভারকে সুস্থ্য রাখার জন্য।

কীভাবে লিভার সুস্থ রাখবেন?

স্বাস্থ্যকর লিভার ফাংশন করার জন্য অনেকগুলো বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে: স্বাস্থ্যকর এবং জৈব খাবার খাওয়া, প্রচুর পানি পান করা, অ্যালকোহল এবং লিভার-বিষাক্ত ওষুধ এড়িয়ে চলা, অল্প পরিমাণে প্রোটিন খাওয়া, নিয়মিত লিভার ডিটক্স করুন।

লিভারের জন্য উপকারী খাবারগুলো

লিভার আপনার শরীরের একমাত্র অঙ্গ যা নিজেকে পরিষ্কার করে। আমরা যা খাই বা পান করি তা আমাদের লিভার দ্বারা ডিটক্সিফাই করে তাই আপনার লিভারকে ফিট রাখতে একটি সুষম, লিভার-বান্ধব খাদ্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাই চলুন জেনে নিই লিভারকে প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এমন খাবারগুলো সম্পর্কে-

গাজর:

বিটা ক্যারোটিনের ভান্ডার গাজর। এই উপাদান শরীরে প্রবেশ করে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। আর এই ভিটামিন হলো ফ্যাটে দ্রবণীয়। গাজর খাওয়ার পর বাইল ফ্লো বাড়ে কয়েকগুণ। ফলে লিভারে উপস্থিত ক্ষতিকর সব উপাদান দ্রুত দেহের বাইরে বেরিয়ে যায়। তাই লিভার সুস্থ রাখতে নিয়মিত গাজর খান।

বিটরুট:

বাঙালি রান্না বিট তেমন একটা ব্যবহার করা হয় না। আর তাই এর একাধিক স্বাস্থ্যগুণ থেকে বঞ্চিত থাকছি আমরা। ফাইবারের ভাণ্ডার বিট। এতে আছে ফোলেট ও পেকটিনের মতো উপাদান। এসব উপাদান লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এমনকী লিভারে জমে থাকা ময়লাকে শরীরের বাইরে বের করে দিতে পারে এই সবজি। তাই লিভার ভালো রাখতে রোজকার পাতে বিটরুট রাখতে চেষ্টা করুন।

আভোকাডো
 
আভাকাডো আধুনিক বিশ্বের সুপারফুড বলা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল রয়েছে; যা লিভারের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এতে গ্লুটাথিয়ন নামে পরিচিত একটি অনন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা আপনার শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন ফিল্টার করতে সাহায্য করে।
 
রসুন
রসুনে একটি নির্দিষ্ট সালফার যৌগ রয়েছে, যা লিভারের এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ ও বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়। এতে সেলেনিয়ামও থাকে যা লিভারকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।
হলুদ
হলুদ হলো সবচেয়ে শক্তিশালী মশলা যা লিভারের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং সুস্থ লিভার কোষ পুনরুজ্জীবিত করে একটি সুস্থ লিভার বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি পিত্তের প্রাকৃতিক উৎপাদনও বাড়ায়। হলুদও লিভারে চর্বি জমা হওয়া রোধ করে, একটি সমস্যা যা ফ্যাটি লিভার, লিভারের সিরোসিসের মতো অবস্থার কারণ হতে পারে।

ভেজিটেবলস:

আমাদের পরিচিত বাঁধাকপি, ফুলকপি এবং ব্রকোলি ক্রুসিফেরাস সবজির মধ্যে অন্যতম। এসব সবজি লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারি। কারণ এসব সবজিতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা লিভারে মজুত টক্সিনকে দূর করে দেয়। এসব সবজিতে আছে ভিটামিন সি যা লিভারের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে রোজ এসব সবজি খান।

নিয়মিত ব্যায়াম:

লিভার সুস্থ রাখতে চাইলে নিয়মিত ব্যায়াম করতেই হবে। সবচেয়ে ভালো হয় জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে পারলে। না পারলে ঘরে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। ব্যায়ামের সময় মেলাতে না পারলে অন্তত কিছুটা সময় হাঁটুন। এতে লিভারসহ পুরো দেহই সুস্থ থাকবে।

সবুজ শাকসবজি
 
সবুজ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য সবসময় ভালো। সবুজ শাকসবজি যেমন পালংশাক, ভিটামিন এ, সি, কে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা রক্তকে বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে।
আখরোট
সাধারণভাবে, বাদামে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন, চর্বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় উপকারী। আখরোট হলো একটি অ্যামিনো অ্যাসিডের সমৃদ্ধ উৎস যা আর্জিনাইন নামে পরিচিত যা লিভার পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। আখরোটে বিশেষ করে উচ্চ মাত্রার উদ্ভিদ যৌগ থাকে। কালো আখরোট লিভারে রক্ত অক্সিজেন দিতে সাহায্য করে।
 
চর্বিযুক্ত মাছ
 
ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত মাছ লিভারের জন্য উপকারী। এই ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের নানা রকম প্রদাহের থেকে দূরে রাখে। সেইসঙ্গে ঠিক রাখে উৎসেচকের ক্ষরণও। খাবারের তালিকায় স্যামন ফিশ রাখলে এক্ষেত্রে উপকার পাবেন। এ ছাড়াও রাখতে পারেন ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত অন্যান্য মাছও।
আপেল
 
ডায়েটে আপেলের মতো ফাইবার সমৃদ্ধ ফল যোগ করা আপনার শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। এটি পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্যকর সহায়তাও প্রদান করে।
 
লেবু
 
বলা হয়ে থাকে এক গ্লাস গরম পানিতে লেবুর রস লিভার ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। আয়ুর্বেদিক সাহিত্য অনুসারে, পিপ্পালি একটি শক্তিশালী ঔষধি গাছ হতে পারে, যার হেপাটোপ্রোটেকটিভ বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং বিভিন্ন লিভারের রোগ পরিচালনায় কার্যকর হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর