মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পিপাসা লাগে কেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি যেসব কারণে

প্রতিনিধির নাম / ১১৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : November 7, 2024
পিপাসা লাগে কেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি যেসব কারণে

‘মশাই, একটু জল পাই কোথায় বলুন তো?’—মনে আছে সুকুমার রায়ের বিখ্যাত গল্প ‘অবাক জলপান’ এর এই উক্তিটি। বেচারা একটুখানি জল মানে পানির জন্য কত দুয়ারে না ঘুরল। পিপাসা বা তৃষ্ণা এমনই বিষয়। প্রিয় সব খাবারের চাহিদা/লোভ সামলানো যায়। কিন্তু পানি পিপাসা পেলে যতক্ষণ না গলা ভেজানো যাচ্ছে ততক্ষণ শান্তি নেই।

পিপাসায় গলা শুকিয়ে গেলে পানি ছাড়া অন্য কিছুতেই মন ভরে না। এখন প্রশ্ন থাকতে পারে, আমাদের পিপাসা লাগে কেন? গলা শুকিয়ে যাওয়ার কারণই বা কী? পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত কেন? চলুন এই প্রতিবেদনে জেনে নিই সব উত্তর-

পিপাসা পায় কেন?

আমাদের রক্তে সবসময় পানি ও লবণের উপস্থিতি থাকে। শরীরের কোষগুলোতেও এই দুটি উপাদান বিদ্যমান। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তে পানি ও লবণের অনুপাত সমান থাকে।

কোনো কারণে যদি রক্তে পানির পরিমাণ কমে যায়, তাহলে দুটি পদার্থের অনুপাতও পরিবর্তিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের তৃষ্ণা বা পিপাসা কেন্দ্র গলায় সংকেত পাঠায়। ফলে কণ্ঠনালী সংকুচিত হতে শুরু করে।

এই সংকোচন কণ্ঠনালীকে ক্রমে শুষ্ক করে তোলে। আর এই শুষ্কতার কারণেই আমাদের পিপাসা লাগে। তখন আমরা পানি পান করি।

তবে পাকস্থলী ও রক্তে পর্যাপ্ত পানি থাকা সত্ত্বেও অনেকসময় আমরা পিপাসাবোধ করি। এই যেমন, নোনতা জাতীয় খাবার বেশি খেলে রক্তে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন পিপাসা লাগে। আবার অতিরিক্ত পিপাসা লাগা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও দেয়।

শারীরবৃত্তীয় অনেক কাজকর্মই চালিয়ে নেয় পানি। তাই শরীরে পানির জোগান দিয়ে যেতে হয়। ‘বডি ফ্লুইড’-এর সমতা বজায় রাখতেও পরিমাণ মতো পানি পান করা জরুরি।

শরীরে পানির অভাব হচ্ছে বুঝবেন কীভাবে? 

চিকিৎসকদের মতে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা বা কাজকর্ম সঠিকভাবে চালনা করার স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি রয়েছে। পুরো শরীরে কোথায় কখন কোন পদ্ধতি প্রয়োজন, তা নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্ক। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় মস্তিষ্কের ওই অংশটিকে ‘হাইপোথ্যালামাস’ বলা হয়।

দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে সঙ্কেত গ্রহণ করে এই ‘হাইপোথ্যালামাস’। এক্ষেত্রে যেমন পানির ঘাটতি হলে সেই সঙ্কেত প্রথমে ‘হাইপোথ্যালামাস’-এ পৌঁছায়। এরপর প্রয়োজনীয় হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। ফের পানির ঘাটতি পূরণের সঙ্কেত হিসাবে পিপাসা বা তৃষ্ণার অনুভূতি প্রেরণ করে।

শরীরে পর্যাপ্ত পানির জোগান থাকা জরুরি কেন?

শরীরে ফ্লুইডের মাত্রা সঠিক হলে তা দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। আর ফ্লুইডের মাত্রা ঠিক রাখে পানি।

পর্যাপ্ত পানির জোগান থাকলে দেহের অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বজায় থাকে। চোখের লুব্রিকেশন ভালো হয়।

পরিমাণ মতো পানি পান করে সংক্রমণজনিত সমস্যা ঠেকিয়ে রাখা যায়।

শরীরে জমে থাকা দূষিত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে পানি। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

পানি পান করলে বিপাকহার ভালো হয়। পেট, ত্বক, চুল— সবই ভালো থাকে।

একজন সুস্থ ব্যক্তির দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে বেশি পানি পান করা যাবে না। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর