খাবারে স্বাদ বাড়াতে দেয়া হয় কিশমিশ। কোনও ভাবেই কিশমিশ ছাড়া যেন পায়েসের স্বাদও পাওয়া যায় না। যদিও কিশমিশ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর করার পাশাপাশি রক্তে লাল কণিকার পরিমাণও বাড়ায়। কিশমিশ শুকনো খাওয়ার থেকে ভিজিয়ে খাওয়া অনেক ভালো। কিশমিশ ভেজানো পানি রক্ত পরিষ্কারে সহায়ক।
কিশমিশে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, পলিফেনলস এবং অন্যান্য বেশ কয়েকটি ফাইবার রয়েছে। কিশমিশ শরীরে যেমন শক্তি যোগায় এবং রক্ত উৎপাদনেও সহায়তা করে।
শুকনা আঙুরই হচ্ছে কিশমিশ যা তৈরি করা হয় সূর্যের তাপ অথবা মাইক্রোওয়েভ ওভেনের সাহায্যে। তাপের কারণে আঙুরের ফ্রুক্টোজগুলো জমাট বেঁধে পরিণত হয় কিশমিশে।
কিশমিশ খেতে আমরা অনেকেই পছন্দ করি। কিন্তু এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে অনেকেই জানি না। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য খাদ্যতালিকায় আজ থেকে কিশমিশ রাখতে পারেন।
কিশমিশের পুষ্টিগুণ :
১. কিশমিশ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। তাই এটি শরীরের পরিপাক ক্রিয়ায় দ্রুত সাহায্য করে। এতে করে খাবার সহজে হজম হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে মুক্ত রাখে।
২. রক্তে লৌহের পরিমাণ কম হলে অবসাদ, দুর্বলতা, হতাশায় ভুগতে পারেন। এ ছাড়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমতে পারে। কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে লৌহ আছে, যা রক্তশূন্যতা দূর করে।
৩. অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি বা রক্ত দূষিত হওয়াকে বলে অ্যাসিডোসিস, যা থেকে আথ্রাইটিস, চামড়া রোগ, হৃদরোগ এবং ক্যান্সার হতে পারে। অ্যান্টাসিডস হিসেবে পরিচিতি দুটি উপাদান ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরের ক্ষরীয়ভাব স্বাভাবিক করে অ্যাসিডোসিসের হাত থেকে বাঁচায়। আর এই উপাদানগুলো কিশমিশে রয়েছে।
৪. ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে কিশমিশ। প্রাকৃতিক শর্করা সমৃদ্ধ কিশমিশ শরীরে বাড়তি ক্যালরি যোগ করা ছাড়াও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে শরীরের বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
৫. বিষাক্ত পদার্থ দূর করে রক্ত পরিষ্কার রাখে কিশমিশ। এ ছাড়া রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
৬. হাড় গঠনের জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, তা কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে। আরও রয়েছে ক্যালসিয়াম ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট। আর তাই প্রতিদিন কিশমিশ খাওয়ার ফলে হাড় সুস্থ ও সুদৃঢ় থাকে। যা মানবদেহের জন্য অতি জরুরি।
৭. কিশমিশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভেজা কিশমিশ এবং তার পানি নিয়মিত খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায় । এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রোগের সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৮. নিয়মিত কিশমিশ খেলে বৃদ্ধ বয়সেও দৃষ্টিহীন হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। পাশাপাশি কিশমিশে থাকা পলিফেনল উপাদান ক্ষতিকারক ফ্রি-রেডিকেলস ধ্বংস করে চোখকে বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে।
৯. ত্বকের জন্যও খুব ভাল কিশমিশ। কিশমিশের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-ই। যা শরীরের ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। ১৫০ গ্রাম কিশমিশ দু কাপ জলে ভিজিয়ে রাখুন। এবার এই পানি ছেঁকে নিয়ে তা দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। তবে কিশমিশ সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। কিশমিশ ভেজানো পানি দিয়েই বানিয়ে নিন ফেসপ্যাক। এর মধ্যে চালের গুঁড়ো, মধু, সামান্য গোলাপ জল আর লেবুর রস মিশিয়ে নিন। এবার তা মুখে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে নিন। এছাড়াও এই ভেজানো কিশমিশ, বেসন, টকদই আর এক-দুটো জাউরান একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে মালিশ করলে ত্বকের জেল্লা ফেরে।
তবে কিশমিশ খুব বেশিও খাবেন না। তাতে সুগার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আজকাল অনেকেই হরমোনের নানা সমস্যায় ভুগছেন। হরমোনের অসামঞ্জস্যতা থেকে আসে পিসিওএসের মতো রোগ।