শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মোদির বিতর্কিত পোস্ট : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

প্রতিনিধির নাম / ১০১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : December 18, 2024
মোদির বিতর্কিত পোস্ট : মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয় দিবসের দিন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এক বিতর্কিত পোস্ট দেন। সেই পোস্টের প্রতিবাদ জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) ‘ইতিহাসের তথ্য’ শিরোনামে এই বিবৃতিতে দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত চূড়ান্ত বিজয়কে ‘ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবে দাবি করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যে বার্তা দিয়েছেন, তার জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতিটি দেওয়া হয়।

আজ ‘ঐতিহাসিক বাস্তবতা’ শিরোনামে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ৯ মাসের দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কী ঘটেছিল ও কী হতে পারত, তা মন্ত্রণালয় ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জে এন দীক্ষিত তার ‘লিবারেশন অ্যান্ড বিয়োন্ড: ইন্ডিয়া–বাংলাদেশ রিলেশনস’ বইয়ে সেদিনের যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা থেকে।

দীক্ষিত বলেন, ‘[পাকিস্তানি বাহিনীর] আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যৌথ বাহিনীতে বাংলাদেশের কমান্ডার জেনারেল এম এ জি ওসমানীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারা ও [আত্মসমর্পণের দলিলে] তাকে অন্যতম স্বাক্ষরকারী হিসেবে না রাখা ছিল ভারতের মিলিটারি হাইকমান্ডের ব্যর্থতা; একটি বড় রাজনৈতিক ভুল।

[সেখানে] তার অনুপস্থিতির বিষয়ে যে আনুষ্ঠানিক অজুহাত তুলে ধরা হয়, তা হলো তাঁকে নিয়ে একটি হেলিকপ্টার রওনা হয়েছিল। কিন্তু তা ঢাকায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে যে সন্দেহটি করা হয়, তা হলো পুরো আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় মিলিটারি কমান্ডারদের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার জন্য তাঁর [ওসমানী] হেলিকপ্টারটি অন্যদিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তিনি সময়মতো ঢাকা পৌঁছাতে না পারেন। এই দুর্ভাগ্যজনক স্খলনটি ভারত এড়াতে পারত। এই ঘটনাটি বাংলাদেশে রাজনৈতিক মহলে বেশ ক্ষোভের জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের শুরুর দিনগুলোয় অনেক রাজনৈতিক ভুল–বোঝাবুঝি দেখা দেয়, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর উপস্থিত থাকলে সেগুলো এড়ানো যেত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেসবুক পোস্ট শেষ করেছে এই বলে, আমরা ১৯৭১ সালে আমাদের গৌরবময় বিজয় উদ্যাপন করি; আমরা সত্য উদযাপন করি।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক ও এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট দেন নরেন্দ্র মোদি। এতে তিনি লিখেছেন, ‘আজ, বিজয় দিবসে, ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সাহসী সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে আমরা সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ আত্মোৎসর্গ ও অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে। এই দিনটি তাদের অসাধারণ বীরত্ব ও অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে।’

পোস্টটিতে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গিয়ে একাত্তরের বিজয়কে কেবল ‘ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়’ বলা হয়েছে। যা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষকে আহত করেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর