চুলের রুক্ষতা দূর করার অন্যতম একটি মাধ্যম কন্ডিশনার। কেননা চুল এমনিই বেশ রুক্ষ। শ্যাম্পু করার পর আঁচড়ে তা এক জায়গায় রাখাও বেশ কঠিন। চুল শুকাতে না শুকাতেই আবার জট লেগে যায়। তখন চুল আঁচড়াতে গেলে ছিঁড়ে যাওয়ারও প্রবণতা থাকে। আর এসব সমস্যা সমাধানে কন্ডিশনারের বিকল্প নেই।
সমস্যা হলো বাজারচলতি প্রায় সব সংস্থার কন্ডিশনারেই রাসায়নিক থাকে। সাময়িকভাবে এগুলো মাখলে চুল নরম হয় ঠিকই কিন্তু চুল পড়ার পরিমাণ বেড়েও যেতে যেতে পারে। ঘরোয়া উপায়ে তৈরি কন্ডিশনার ব্যবহার করলে এমন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কীভাবে ঘরে কন্ডিশনার তৈরি করতে পারেন জানুন তার উপায়-
মধু ও অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল আর মধু রূপচর্চার অন্যতম দুই উপাদান। চুলের যত্নেও এগুলো বেশ উপকারি। একটি কাপে ২ চামচ মধু আর ১ চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মিশ্রণ বানিয়ে নিন। শ্যাম্পু করার পর ভেজা চুলে এই মিশ্রণটি মেখে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর ধুয়ে নিন। এতে চুল হবে নরম, কোমল।
কলা, টক দই
কন্ডিশনার হিসাবে কলার মাস্ক দারুণ কার্যকরী। যাদের চুল পড়ার সমস্যা বেশি তাদের ক্ষেত্রে এটি ভালো দাওয়াই হতে পারে। কলা চটকে খানিকটা অলিভ অয়েল মিশিয়ে চুলে মেখে অপেক্ষা করুন। কয়েকদিন এই প্যাক ব্যবহারে চুলের ঘনত্বও বাড়বে।
ডিম, নারকেল তেল
চুলের জন্য উপকারি একটি উপাদান ডিম। এটি চুলকে শুষ্ক হওয়ার হাত থেকে বাঁচায়। এর সঙ্গে নারকেল তেল মিশিয়ে নিয়ে প্যাক বানিয়ে ফেলুন। চুলকে মোলায়েম করবে এই প্যাক। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত এটি লাগাবেন। এবার একটি শাওয়ার ক্যাপ পরে নিন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে তা ঈষদুষ্ণ পানিতে ধুয়ে নিন।
অ্যাপল সিডার ভিনেগার
রুক্ষ, নিষ্প্রাণ চুলে জেল্লা ধরে রাখার পাশাপাশি মাথার ত্বকের পিএইচের সমতা বজায় রাখে অ্যাপল সিডার ভিনেগার। মাথায় খুশকির সমস্যা থাকলে তা-ও দূর করে। সম পরিমাণে পানি আর অ্যাপল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে নিন। মাথায় রাখুন আধ ঘণ্টা। এরপর শ্যাম্পু করে ফেলুন।
নারকেলের দুধ
যাদের চুল ভীষণ রুক্ষ, তারা কন্ডিশনার হিসাবে নারকেলের দুধ ব্যবহার করতে পারেন। চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রাকৃতিক এই উপাদানটি দারুণ কাজের। চাইলে নারকেলের দুধের সঙ্গে সামান্য অলিভ অয়েলও মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ মাথায় মেখে অপেক্ষা করুন আধা ঘণ্টা। এরপর শ্যাম্পু করে নিলেই হবে।