বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনীর নীতিগত অনুমোদন

প্রতিনিধির নাম / ৯১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : March 17, 2025
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনীর নীতিগত অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনীর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আজ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেখানে এই আইনের সংশোধনীর ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আজকে নারী ও শিশু দমন নির্যাতন আইন-২০০০-এর বেশকিছু সংশোধনী আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। আমাদের কেবিনেট সেটা নীতিগত অনুমোদন দেয়। ইতোমধ্যে আমরা কিছু মতামত পেয়েছি। সেই মতামতগুলো কাল-পরশু যাচাই-বাছাই করব। বৃহস্পতিবার এই আইনটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেবে বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, ধর্ষণের বিচারের বিলম্ব হওয়ার কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডিএনএ ল্যাব না থাকা। এই মুহূর্তে একটি মাত্র ল্যাব আছে। আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি ডিএনএ ল্যাব স্থাপন করব।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত কিছু সংখ্যক বিচারক নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে, যেন ধর্ষণসহ অন্যান্য মামলার বিচার ত্বরান্বিত করা যায়।

এ সময় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, সংশোধনীর খসড়ায় শিশু ধর্ষণ মামলা আলাদাভাবে বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিধান রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে সবাই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে-সম্মতি নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে ধর্ষণ একটা আলাদা অপরাধ। সম্মতি ব্যতীত যে ধর্ষণ সেটার বিচার ও তদন্তের সময় কমানো হয়েছে। যেকোনো ধর্ষণ হলে আমরা এই আইনের আওতায় আনছি। ডিএনএ রিপোর্টের জন্য অনেক মামলা বছরের পর বছর পড়ে থাকে।

তিনি বলেন, আমরা এই আইনে বিধান করেছি ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই আদালত যদি মনে করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষীর ভিত্তিতে বিচার সম্ভব, তাহলে সেটা করতে পারে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করছি। ধর্ষণকালে বা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে যদি কোনও জখম করা হয়, সেটাকেও আমরা কঠোর শাস্তির আওতায় আনছি।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিচারকাজের সময়সীমা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এছাড়া আইনে শিশু ধর্ষণের মামলা আলাদাভাবে বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। এতে সবাই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন।’

সম্মতি ছাড়া ধর্ষণের ঘটনায় বিচার কাজের সময় কমানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলার জট লেগে যেতো। এখানে দুই ধরনের মামলা আসতো। একটা হলো, সম্মতিসহ ধর্ষণের ঘটনা বা বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ। এসব মামলার অনেক আধিক্য ছিল। সম্মতি ছাড়া ধর্ষণের ঘটনার মামলাগুলোর বিচার এ কারণে আটকে থাকতো। সে জন্য আমরা বিধান করেছি, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের ঘটনা সেটা একটা আলাদা অপরাধ। আর সম্মতি ছাড়া যেসব অপরাধ, সেগুলো আইনে আলাদা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সম্মতি ছাড়া যেসব অপরাধ, সেগুলোর বিচার কাজের সময় কমানো হয়েছে। আমরা এটাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ধর্ষণের মামলার ক্ষেত্রে কিছু সংজ্ঞাগত পরিবর্তন এনেছি। সংজ্ঞা পরিবর্তন করে শুধু পুরুষের মাধ্যমে না, যেকোনও ব্যক্তির মাধ্যমে ধর্ষণকে শাস্তিযোগ্য করা হচ্ছে। এছাড়া ধর্ষণের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, বলাৎকারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু পেনিট্রেশন না, যদি অন্য কোনও বস্তু ব্যবহার করা হয়, কিংবা যে কোনোভাবে ধর্ষণ করা হয়, সেসবকে আমরা শাস্তির আওতায় আনছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর