গত কয়েক বছরে দেশের বাজারে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বিভিন্ন ব্যান্ডের ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস। শহরের সুপারশপগুলো ছাড়িয়ে গ্রাম-গঞ্জেও পৌঁছে গেছে এই পানীয়টি। ছোট্ট শিশু থেকে বয়স্ক মানুষদেরও অহরহ পান করতে দেখা যায় এটি। শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি মেটানোর জন্য এটি পান করার নিয়ম থাকলেও, কেউ ঘাটতি পূরণে আবার কেউ প্রয়োজন ছাড়াই পান করেন।
এদিকে এখন গরমের আঁচ শুরু হয়েছে। এই সময় ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস পান সচরাচরই চোখে পড়ে। গরমের সময় উপকারের আশায় অনেকেই এটি পান করছেন। কিন্তু এটি কী, কখন খেতে হবে, এর উপকারিতা-ই বা কী, তা কী জানেন? এ নিয়ে চ্যানেল ২৪-এর সঙ্গে কথা বলেছেন পুষ্টিবিদ নাহিদা আহমেদ।
ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস কী: খনিজ উপাদানের সমষ্টি হচ্ছে ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস। এটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বৈদ্যুতিক শক্তি বহন করে। দৈনিক যে খাবার ও পানীয় গ্রহণ করা হয়, সেখান থেকেই ইলেক্ট্রোলাইটের জোগান পায় শরীর। আর যেসব খনিজ থেকে এই উপাদান পাওয়া যায়, তা হচ্ছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম।
ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের কাজ: ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের বিভিন্ন দৈনন্দিন কাজ করতে ব্যবহার হয়। এর মধ্যে শরীরে পানি ও অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বজায় রাখা, বিভিন্ন কোষের মধ্যে পুষ্টি উপাদান পৌঁছানো এবং সেখান থেকে বর্জ্য অপসারণে ভূমিকা রাখা, পেশি, স্নায়ু, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ঠিক রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কোষের ক্ষয়পূরণ করে থাকে।
কখন পান করবেন ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস: অনেকেই আছেন নিয়মিত শারীরিক চর্চা বা ব্যায়াম করেন। এ জন্য তাদের শক্তির প্রয়োজন হয়। আর শক্তি জোগাতে ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস জনপ্রিয়। নিয়মিত জিম করলে ঘামের মাধ্যমে ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়। শারীরিক পরিশ্রম ও ঘামের জন্য শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলাইট উপাদান বের হয়। আমাশা, ডায়রিয়ার মতো অসুখ হলেও শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে ইলেক্ট্রোলাইট। এ অবস্থায় শরীরের কার্যক্রম ঠিক রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট মাত্রার ইলেক্ট্রোলাইট থাকার প্রয়োজন হয়। আর শরীরে খনিজ উপাদানের শূন্যতা পূরণের জন্য ইলেক্ট্রোলাইট পান করতে পারেন।
প্রস্রাব স্বাভাবিক থাকলে এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে নিয়মিত ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের প্রয়োজন নেই। কিন্তু পানি বা তরল গ্রহণের তুলনায় যদি এর বেশি পরিমাণ তরল হারান কিংবা শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়, তাহলে ইলেক্ট্রোলাইট হারাবে শরীর। আর ডিহাইড্রেশনের লক্ষণগুলো হচ্ছে খুব বেশি তৃষ্ণা পাওয়া, মাথা ঘোরা, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া। এ অবস্থায় ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস খেতে পারেন।
এছাড়া তীব্র গরমে অবস্থান, ব্যায়াম করা, বমি বা ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে অনেক বেশি তরল বের হয়। এ অবস্থায় ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস খেতে পারেন। এতে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটস, যেমন পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও চিনি থাকে। এই পানীয়ের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে শরীরকে রিহাইড্রেট রাখতে সহায়তা করা। এ কারণে ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের মূল উপাদানই পানি থাকে। তবে এই পানীয় পানের উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময় পরিমাণমত চিনি ও ইলেক্ট্রোলাইট যোগ করার প্রয়োজন হয়ে।
ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকসের প্রতিক্রিয়া: উপকারের আশায় কখনো অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস পান করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শরীরে বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জটিলতা দেখা দিতে পারে। আবার আপনার দেহে খনিজ উপাদানের ঘাটতি না থাকার পরও এটি নিয়মিত পান করলে অসুস্থ হতে পারেন।
পরামর্শ: বাসা-বাড়িতে বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ইলেক্ট্রোলাইট ড্রিংকস। প্রয়োজনে নিজে তৈরি করে খেতে পারেন। তবে দরকার না হলে এটি পান না করাই ভালো। এছাড়া এটি পানে কোনো সমস্যা হলে বা যেকোনো শারীরিক জটিলতায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।