সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পুরুষের ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কিনা জানা যাবে মুখের লালা পরীক্ষায়

প্রতিনিধির নাম / ৯৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : April 12, 2025
পুরুষের ক্যানসারের ঝুঁকি আছে কিনা জানা যাবে মুখের লালা পরীক্ষায়

প্রতিবছর সারাবিশ্বে ফুসফুস ক্যানসারের পর প্রোস্টেট ক্যানসারে সবচেয়ে বেশি পুরুষের মৃত্যু হয়। এই বিশাল প্রাণহানী কমানো সম্ভব যদি প্রাথমিক অবস্থায় এই ক্যানসার সনাক্ত করা যায়। বর্তমানে প্রোস্টেট ক্যানসার সনাক্ত করা হয় পিএসএ টেস্ট বা প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন টেস্ট-এর মাধ্যমে। এই পদ্ধতিটি অনেক সময় ভুল তথ্য দেয় এবং উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতিই বেশি করে।

এবার যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তে নতুন একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এ পদ্ধতিতে মুখের লালা পরীক্ষা করেই জানা যাবে কেউ এই মারাত্মক রোগটির ঝুঁকিতে আছেন কিনা। যার মাধ্যমে মানুষ এই রোগটি মোকাবেলা করার জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।

যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এটি প্রোস্টেট ক্যানসার পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

এই গবেষণায় পুরুষদের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, কারা জন্মগতভাবে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের যখন বায়োপসি এবং এমআরআই স্ক্যান করা হয় তখন কিছু আগ্রাসী ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে, যা অন্যভাবে হয়তো এত তাড়াতাড়ি ধরা পড়ত না।
তবে এখনও এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব কিনা, তা প্রমাণিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরীক্ষা হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত চালু করতে আরও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর প্রায় ১২,০০০ পুরুষ প্রোস্টেট ক্যানসারে মারা যান। সম্প্রতি দেশটির অলিম্পিক সাইক্লিস্ট স্যার ক্রিস হয় প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুপথযাত্রী হওয়ার খবর আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এরপর দেশটিতে স্বাস্থ্যবান পুরুষদের নিয়মিত ক্যানসার পরীক্ষা (স্ক্রিনিং) করার দাবি জোরালো হয়েছে।

নতুন উদ্ধাবিত এই মুখের লালা পরীক্ষা দেহে ক্যানসারের চিহ্ন আছে কি নাই তা খুঁজে দেখা হয় না, বরং প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় পুরুষদের ডিএনএতে এমন ১৩০টি মিউটেশন শনাক্ত করা হয়।

গবেষণায় ৫৫-৬৯ বছর বয়সি পুরুষদের পরীক্ষা করে তাদের ঝুঁকি নির্ধারণ করা হয়। যারা ঝুঁকির শীর্ষ ১০ শতাংশে ছিলেন তাদের আরও পরীক্ষার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়; এই পরীক্ষার মধ্যে ছিল বায়োপসি এবং এমআরআই।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রোস্টেট ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকির ৭৪৫ জন পুরুষের মধ্যে ৪৬৮ জন অতিরিক্ত পরীক্ষা করিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮৭ জনের প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ জনের ক্যানসার প্রচলিত পরীক্ষায় এই পর্যায়ে ধরা পড়ত না।

লন্ডনের ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চের অধ্যাপক রোজ ইলেস বলেন, ‘এই পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা প্রোস্টেট ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড়সড় অগ্রগতি আনতে পারি। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পুরুষদের শনাক্ত করে সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিতে পারব এবং যাদের ঝুঁকি কম তাদের অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে রেহাই দিতে পারবো।’

গবেষণায় অংশ গ্রহণ করে রক্ষা পেলেন দু’জন

৭১ বছর বয়সি ধীরেশ টার্নবুল এই গবেষণায় অংশ নিয়েছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের প্রোস্টেট ক্যানসারের কোনো ইতিহাস না থাকলেও তিনি এই ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়েন। পরবর্তী পরীক্ষায় দেখা যায়, তার ক্যানসার হয়েছে।

ধীরেশ বলেন, ‘আমি পুরোপুরি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলাম। আমি যদি এই ট্রায়ালে অংশ না নিতাম, তাহলে এই পর্যায়ে কখনই আমার ক্যানসার ধরা পড়ত না।’

এরপর তার ছোট ভাইকেও এই গবেষণায় আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তিনিও আগ্রাসী ক্যানসারে আক্রান্ত বলে জানা যায়।

‘এই গবেষণার কারণে আমাদের পরিবারের দু’জনের জীবন বেঁচে গেছে, ভাবতেই অবাক লাগছে’, বলেন ধীরেশ।

এখনো অনেক পথ বাকি

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পরীক্ষা এখনই সবখানে চালু করার জন্য উপযুক্ত নয়।

কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ডুসকো ইলিচ বলেছেন, এটি আশাব্যঞ্জক হলেও, বয়স, ক্যানসার স্তর ও এমআরআই-এর মতো বর্তমান ঝুঁকি সূচকের সঙ্গে মিলিয়ে এটি সামান্য উন্নতি আনতে পেরেছে।

তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এই পদ্ধতিটি দ্বারা মৃত্যুহার বা জীবনমান উন্নত হয়— এমন সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই আরও গবেষণা প্রয়োজন।’

এই গবেষণায় মূলত ইউরোপীয় বংশোদ্ভূতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা এখন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জন্য এর কার্যকারিতা বিবেচনা করছেন; বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষদের, যাদের প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি দ্বিগুণ বলে মনে করা হয়।

এছাড়া এই পরীক্ষার খরচ-সাশ্রয়ী করা, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং কোন বয়সে এটি করানো সবচেয়ে উপযুক্ত হবে— এসব বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাইকেল ইনোউয়ে বলেছেন, ‘পরীক্ষাটি ক্লিনিকে ব্যবহারের পথে একটি বড় পদক্ষেপ, কিন্তু এখনও অনেক দূর যেতে হবে।’

তিনি জানান, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে এই পরীক্ষা চালু হতে সম্ভবত আরও কয়েক বছর সময় লাগবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর