সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ভেষজ করমচা ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ নিরাময় করে

প্রতিনিধির নাম / ৩৫৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 10, 2025
ভেষজ করমচা ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ নিরাময় করে

স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিচর্যায় ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহারের ইতিহাস মানব সভ্যতার ইতিহাসের মতোই সুপ্রাচীন। সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভেষজ ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রাচীনকাল থেকে করমচা অত্যন্ত কার্যকরী ভেষজ ফল হিসেবে পরিচিত। মৌসুমী ফল করমচা দেখতে অনেকটা চেরি ফলের মতো, সুস্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী। করমচায় থাকা কপার আমাদের শরীরে কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে। এই ফলে আছে একাধিক রোগ দূর করার ক্ষমতা। কাঁচা খাওয়া, আচার তৈরি করা ছাড়াও মোরব্বা ও বিভিন্ন তরকারিতে দিয়ে খাওয়া যায় এই ফলটি।

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে এই ফলটি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারস্সিসা কারান্ডাস, ইংরেজি নাম একোক্যানাসেই। ফলটির রঙ হালকা লাল, গোলাপি ও সাদা হয়। পাকলে বেশিরভাগ করমচার রঙ হালকা লালচে হয়ে থাকে। বর্তমানে করমচা উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে।

কাঁচা থাকাকালীন করমচা সবুজ রঙের হয়। ফলটিতে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। যেমন, করমচা খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে অনেকটাই। সেইসঙ্গে ধমনীতে রক্ত চলাচলও ঠিকভাবে হয়ে থাকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম করমচায় রয়েছে এনার্জি ৬২ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট ১৪ গ্রাম, প্রোটিন শূন্য দশমিক ৫ গ্রাম, ভিটামিন-এ ৪০ আইইউ, ভিটামিন সি ৩৮ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন শূন্য ১ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন শূন্য ২ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৬ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ২৬০ মিলিগ্রাম ও কপার শূন্য দশমিক ২ মিলিগ্রাম।

করমচায় ফ্যাট বা কোলেস্টেরল না থাকায় তা ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগীদের জন্য খুব ভালো। ওজন কমাতে সাহায্য করা এই ফলটি খাবারে রুচি বৃদ্ধি করে। রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রেখে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোসহ গায়ের চুলকানি ও ত্বকের নানা রোগ প্রতিরোধে জুড়ি নেই করমচার। শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করতে সহায়তা করে করমচা। এছাড়া যকৃত ও কিডনির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পেটের অসুখ নিরাময়, শরীরের ক্লান্তি দূর, বাতরোগ ও ব্যথা নিরাময়ে কাজ করে করমচা।

এছাড়াও করমচায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-এ যা চোখের জন্য উপকারী। করমচা গাছের পাতা সেদ্ধ করে সেই পানি পান করলে কালাজ্বর দ্রুত নিরাময় হয়। করমচা গাছের মূলে রয়েছে হৃদরোগ নিরাময়ী উপকারি ক্যারিসোন, বিটাস্টেরল, ট্রাইটারপিন, ক্যারিনডোনা ও লিগনাম। কাঁচা করমচার রস কৃমিনাশক হিসেবেও খুব ভালো। করমচা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। এর পাতা থেকে শুরু করে ফল পর্যন্ত পুষ্টিগুণে ভরা। এজন্য বাড়িতে ভেষজ উদ্ভিদ হিসেবে করমচা লাগানো যেতে পারে।

নিয়মিত করমচা খেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। ওজন কমাতেও দারুণ কাজ করে। সেইসাথে পেটের রোগ থেকে মুক্তি দিতে কাজ করে। এ সকল রোগ থেকে বাঁচতে এই ফলটি দারুন উপকারিতা হিসাবে কাজ করে।

দাঁত ও মাড়ি মজবুত রাখতে নিয়মিত করমচা খেতে হবে। এই ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, বি ও আয়রন। সেইসাথে করমচায় আরো রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ট্যানিন, ক্যারিসোন ও ট্রাইটারপেনয়েড। যার ফলে করমচা খেলে শরীরে অনেক উপকার মেলে।

যাদের লিভার ও কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে তারা এই ফলটি খেতে পারেন। এতে অনেকটাই উপকার মিলবে। সহজলভ্য হলেও তবে খুব অল্প সময়ের জন্যেই পাওয়া যায় করমচা ফল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর