বয়স বাড়লে অনেক সময় স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া স্বাভাবিক। তবে অল্প বয়সেই যদি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়, তবে সেটি হতে পারে ‘ব্রেইন ফগ’-এর লক্ষণ। মাথা ঝিমঝিম করা, চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাওয়া, সাম্প্রতিক ঘটনা ভুলে যাওয়া কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা—এসব উপসর্গে ভোগেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ব্রেইন ফগ’ আসলে কোনো রোগ নয়, বরং কিছু উপসর্গের সমষ্টি। মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, হরমোনের পরিবর্তন, ওষুধের প্রভাব, ডায়াবেটিস, অ্যানিমিয়া কিংবা কোভিড–সবই এর কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় খাদ্যাভ্যাসকেও এর একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব কারণে রক্তনালীর ক্ষতি হয়, স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয় এবং স্বল্প সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রংশও হতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ভাস্কুলার ডিমেনশিয়া’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই ব্রেইন ফগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব:
নিজের প্রতি সদয় হোন – এটা কোনো দুর্বলতা নয়; সাময়িক একটি অবস্থা। প্রয়োজনে সাহায্য চান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
রুটিন তৈরি করুন – পরিচিত কাঠামো মস্তিষ্ককে চাপমুক্ত রাখে। সকাল–রাতের রুটিন বানানো কার্যকর।
বিরতি নিন – কাজের ফাঁকে ছোট ছোট বিরতি নিলে মস্তিষ্ক চাপমুক্ত হয়।
ক্যালেন্ডার ও রিমাইন্ডার ব্যবহার করুন – সব কাজ মনে রাখার দায়িত্ব প্রযুক্তিকে দিন।
স্ক্রিন টাইম কমান – মোবাইল ও টিভি স্ক্রিনে সময় কমান, ধ্যান ও বিশ্রামে গুরুত্ব দিন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন – নিয়মিত ও গভীর ঘুম স্মৃতিশক্তি রক্ষায় অপরিহার্য।
পানি বেশি পান করুন – শরীরে পানিশূন্যতা মনোযোগে প্রভাব ফেলে।
মদ্যপান এড়িয়ে চলুন – এটি মস্তিষ্কের কোষ ধ্বংস করে স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে।
পুষ্টিকর খাবার খান – ডিম, মাছ, বাদাম, সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন।
শরীরচর্চা করুন – নিয়মিত হাঁটা, দৌড় ও ব্যায়াম মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবাহ বাড়ায়, চিন্তাভাবনা পরিষ্কার করে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ‘ব্রেইন ফগ’ কোনো আলাদা অসুখ নয়, তবে জীবনযাত্রার সঠিক নিয়ম মেনে চললে এটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।