সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :

বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে : শিক্ষামন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম / ১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : June 14, 2026
বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে : শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে তিনটি বিষয়কে। আর সেই তিনটি বিষয়ই হলো প্রথমত শিক্ষা, দ্বিতীয়ত শিক্ষা এবং তৃতীয়তও শিক্ষা।

রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ইউনিসেফ আয়োজিত বাংলাদেশ এডুকেশন সেক্টর অ্যানালাইসিস (ইএসএ) বিষয়ক একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ইউনিসেফের প্রতিবেদনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু এখনো বিদ্যালয়ের বাইরে রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে এ হার ১৩ শতাংশের বেশি। ফলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পড়ার বয়সি প্রায় ৪০ লাখ শিশু-কিশোর শিক্ষা কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সংখ্যা বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, ২০২২ সালের তুলনায় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ছেলেশিশুর সংখ্যা আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এরই মধ্যে অনেক বিষয় চিহ্নিত করেছি এবং সেগুলো নিয়ে কাজ শুরু করেছি। আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথা বিবেচনায় নিয়ে এবারের বাজেটে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

দেশের শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান বা ‘লার্নিং আউটকাম’ এখনও আশানুরূপ পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে, যা মোট বাজেটের ২ শতাংশ। তবে কেবল বরাদ্দ বৃদ্ধিই যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করার ওপর তাগিদ দেন।

বরাদ্দের তুলনায় শিক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলের ব্যবধানের কথা স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লার্নিং আউটকাম বা শিক্ষার চূড়ান্ত অর্জন এখনও সন্তোষজনক নয়। তবে আমরা এই ব্যবধানের পেছনের সমস্যাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করছি এবং তা সমাধানে দ্রুত কাজ শুরু করেছি।’

শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতে শিক্ষায় আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মুখস্থ বিদ্যার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে সরকার।

প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

তিনি জানান, ঝরে পড়া রোধ করতে সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের স্কুল ইউনিফর্ম ও মিড-ডে মিল চালুর পাশাপাশি স্কুলগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন কারিকুলামে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে পড়াশোনাকে আরও আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ গঠনে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে ২০৪১ সালের মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন, আর সেই বিনিয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা।

উচ্চশিক্ষা নিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে এখনো কাঙ্ক্ষিত সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। ফলে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এ ব্যবধান কমাতে শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, দরিদ্র পরিবারের শিশু, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশু এবং দুর্গম বা জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুরা শিক্ষাবঞ্চিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুকে মূলধারার শিক্ষায় যুক্ত করতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, খুব দ্রুত দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রি-প্রাইমারি শিক্ষা চালু করা হবে। আগামী বছরের মধ্যে সারাদেশের সব স্কুলে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে সবাই সেখানে ভর্তি হওয়ার জন্য আগ্রহী হয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সব স্কুলকে সিঙ্গেল শিফটে নিয়ে আসার লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষক যেন বিদ্যালয়ে পাঠদান করতে না পারেন, সেটি ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে। কারিকুলাম, শিক্ষক, অবকাঠামো ও পরিবেশ এবং ব্যবস্থাপনা এই চারটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বাধ্যতামূলক করা হবে। ২০২৮ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক শিক্ষায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হবে স্পোর্টস ও কালচার। এছাড়া দুর্নীতি রোধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলির দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর