শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৮ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :

প্রতিদিন নাশতা বাদ দিলে নারীদের যে ৫ সমস্যা হতে পারে

প্রতিনিধির নাম / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 21, 2026
প্রতিদিন নাশতা বাদ দিলে নারীদের যে ৫ সমস্যা হতে পারে

সকালের নাশতা দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাবার। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নাশতা বাদ দেওয়ার অভ্যাস সামগ্রিক স্বাস্থ্য, শক্তির মাত্রা ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু সময় না খেয়ে থাকা অনেকের জন্য স্বাভাবিক হলেও, নিয়মিত নাশতা বাদ দিয়ে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত না করলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

নিউট্রাসি লাইফস্টাইলের প্রতিষ্ঠাতা, পুষ্টিবিদ ও লেখক ড. রোহিণী পাটিল ব্যাখ্যা করেছেন, কেন নারীদের নিয়মিত নাশতা বাদ দেওয়ার অভ্যাসটি নতুন করে ভেবে দেখা উচিত।

শক্তির ঘাটতি ও মনোযোগ কমে যাওয়া

ড. রোহিণী পাটিলের মতে, নাশতা না খাওয়ার অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো অতিরিক্ত ক্লান্তি ও মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা। সারা রাত ঘুমানোর পর শরীরের শক্তি জোগাতে এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে খাবারের প্রয়োজন হয়। নাশতা বাদ দিলে ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এর ফলে সকালে কাজের উৎপাদনশীলতাও কমে যেতে পারে।

রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা

নারীদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে নাশতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা হতে পারে। এর ফলে দিনের পরের দিকে মিষ্টি বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হতে পারে। সময় গড়ানোর সঙ্গে এই অভ্যাস ওজন বাড়াতে পারে এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বাড়তে পারে স্বাস্থ্যগত সমস্যা

ড. পাটিল বলেন, ‘যেসব নারীর পিসিওএস (PCOS), থাইরয়েডের সমস্যা বা অনিয়মিত মাসিকের মতো হরমোনজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা নাশতা বাদ দিলে আরও বেশি স্বাস্থ্যগত সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন।’ প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে খাবার খেলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। অন্যদিকে, নিয়মিত নাশতা বাদ দিলে শরীরের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং বিদ্যমান উপসর্গ আরও খারাপ হতে পারে।

পুষ্টির ঘাটতি

নাশতা বাদ দেওয়ার অর্থ হলো দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণের সুযোগ হারানো। নাশতার মাধ্যমে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ভিটামিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করা যায়। যেসব নারী নিয়মিত নাশতা খান না, তারা শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি নাও পেতে পারেন বিশেষ করে দিনের অন্যান্য খাবারেও যদি সুষম পুষ্টি না থাকে।

হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা

নাশতা না খাওয়ার অভ্যাস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে দিনের পরের দিকে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগতে পারে এবং অনেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলতে পারেন। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে ড. পাটিলের মতে, প্রত্যেক মানুষের শরীর ও খাদ্যাভ্যাস আলাদা। খাবার খাওয়ার কোনো একটিমাত্র সঠিক পদ্ধতি নেই। কিছু নারী নির্দিষ্ট সময় উপবাসে থেকেও শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি গ্রহণ করতে পারেন।

পুষ্টিকর নাশতা গুরুত্বপূর্ণ

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শরীরের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া। প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ফাইবার ও জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাশতা সারা দিন শক্তি ধরে রাখতে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থ থাকতে সহায়তা করতে পারে। ক্যালরি গণনার পরিবর্তে নারীদের শরীরের জন্য উপকারী খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে প্রতিটি খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। সামগ্রিকভাবে, শক্তি, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নাশতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর