সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 21, 2026
সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের দুই প্যাকেজ ঘোষণা, কমল বিমান ভাড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের হজের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘হজ প্যাকেজ-১’-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং ‘হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)’এর খরচ ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এছাড়া হজযাত্রীর বিমান ভাড়া ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এ দুই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ প্যাকেজ-১ এ হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকায় আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। মিনায় জোন-২ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। সাধারণত সৌদি আরবে অবস্থানকাল হবে ৩৫-৪০ দিন।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ সাপেক্ষে রুম আপগ্রেডেশন ও শর্ট প্যাকেজ সুবিধা নেওয়া যাবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা।

হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই প্যাকেজ হজ প্যাকেজ-১ এর চেয়ে কিছুটা সুলভ। এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হোটেল হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে ২-৩ কিলোমিটারের মধ্যে হবে এবং মদিনায় মারকাজিয়া এলাকার বাইরে মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ‘সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেমের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

বেসরকারি তথা হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজযাত্রীদের জন্য ‘বেসরকারি মাধ্যমের সাধারণ হজ প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই প্যাকেজের হজযাত্রীদের মক্কায় হারাম শরীফের বহিঃচত্বর থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটারের মধ্যে এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একরুমে সর্বোচ্চ ৬ জনের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, মিনায় জোন-৫ এ তাঁবুর অবস্থান হবে এবং মিনা- আরাফায় ’সার্ভিস প্যাকেজ-৩’ ক্যাটাগরির সার্ভিসসহ মোয়াল্লেম থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। হোটেলের অবস্থান দুই কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সৌদি সরকারের বিধান অনুসারে সালাওয়াত বাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ প্যাকেজের খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি ২০২৬ সালের হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধান এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা একটি সুন্দর ও সাবলীল হজ ব্যবস্থাপনা জাতিকে উপহার দিতে পেরেছি। সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী একটি দ্বিপক্ষীয় সভায় বাংলাদেশের এবছরের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।

তিনি বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও হজযাত্রীদের উন্নত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সৌদি সরকার প্রায় প্রতিবছর হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন না কোন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। ২০২৭ সালের হজে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় হাজিদের সেবা, আবাসন ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে।

মন্ত্রী বলেন, তারা মক্কা ও মদিনায় হজযাত্রীদের আবাসন, যাতায়াত, ক্যাটারিং, তাঁবু ও সার্ভিস প্যাকেজকে একটি সমন্বিত প্যাকেজের মধ্যে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০২৬ সালে মিনা-আরাফায় এ, বি, সি ও ডি মোট চারটি সার্ভিস প্যাকেজ ছিলো; কিন্তু ২০২৭ সালের হজে সার্ভিস প্যাকেজ হবে ৩টি; ‘ডি’ সার্ভিস প্যাকেজটি থাকছে না। এছাড়া ২০২৭ সালের হজে হাফ বোর্ড ক্যাটারিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের হজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমানভাড়া কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছিল। এবছর প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় বিমান ভাড়া গত বছরের চেয়ে ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ২০২৩ সালে বিমান ভাড়া ছিলো প্রায় দুই লাখ টাকা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিমান ভাড়া এক লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা করা হয়। ২০২৭ সালের হজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিমান ভাড়া কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা হজ ফ্লাইটে বিমান ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক মাইলফলক।

এদিকে, ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে।

ই-হজ সিস্টেমে প্যাকেজ নির্বাচন করে সাড়ে তিন লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরে প্যাকেজের সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজে গমনের জন্য পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল হজ ফ্লাইট শুরু হবে এবং ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে কতজন হজ পালন করতে পারবেন সেটা হজ চুক্তির সময় নির্ধারিত হবে বলেও জানান ধর্মমন্ত্রী।

বিমান ভাড়া কমলেও যে কারণে কমেনি হজের খরচ

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য (খাবার ব্যয় ছাড়া) ছিল ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৩৭ টাকা। ২০২৭ সালের জন্য একই প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে আপাতদৃষ্টিতে প্যাকেজের মূল্য ৩৮ হাজার ৪৮১ টাকা বেড়েছে বলে মনে হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিশ্লেষণে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে।

এবারের প্যাকেজে প্রথমবারের মতো খাবার বাবদ ৩৯ হাজার ৫০৮ টাকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা গত বছরের প্যাকেজে ছিল না।

এছাড়া, সৌদি সরকার মিনা ও আরাফাতে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরির সেবা বাতিল করায় অতিরিক্ত ৭০০ সৌদি রিয়াল ব্যয় যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার ২৪০ টাকা (প্রতি রিয়াল ৩৩ দশমিক ২০ টাকা হিসাবে)।

এদিকে, বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণেও ব্যয় বেড়েছে আরও ৩ হাজার ৮২৫ টাকা ৮৫ পয়সা।

সব মিলিয়ে এসব ব্যয় যুক্ত করলে ২০২৬ সালের সর্বনিম্ন প্যাকেজের প্রকৃত মূল্য দাঁড়ায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭১১ টাকা। সেই তুলনায় ২০২৭ সালের জন্য নির্ধারিত ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকার প্যাকেজে প্রকৃত ব্যয় ২৮ হাজার ৬৩ টাকা কমেছে বলেও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর