সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়

প্রতিনিধির নাম / ৬৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 15, 2026
৮ কারণে মুখের চামড়া কুঁচকে যায়

বাংলাদেশে বয়স বাড়া মানেই অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়া। কপালের ত্বকে ভাঁজ, চোখের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা কিংবা গালের মসৃণতা হারিয়ে যাওয়া; এসব লক্ষণ যেন চেহারার তারুণ্যকেই কেড়ে নেয়।

অনেক সময় বয়স না বাড়লেও অল্প বয়সেই ত্বকে কুঁচকে যাওয়া শুরু হয়, যা উদ্বেগ বাড়ায় আরও বেশি। শহরের ধুলাবালি, রোদের তাপ, ব্যস্ত জীবনের মানসিক চাপ, রাত জাগা, অস্বাস্থ্যকর খাবার; সব মিলিয়ে ত্বক তার স্বাভাবিক জেল্লা হারাতে থাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু বয়স নয়, নানা ধরনের অভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনযাত্রার কারণেও মুখের চামড়ায় ভাঁজ পড়তে পারে। তবে সুখবর হচ্ছে, কিছু সচেতনতা আর নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যাকে অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব।

এসব বিষয়ে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত নিবন্ধতে বিস্তারিত কারণ ও সমাধানের উপায় জানিয়েছেন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ধানমন্ডি-এর মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ হোসেন খান।

চলুন তাহলে জেনে নিই, কেন চামড়া কুঁচকে যায়—

১. বয়সজনিত পরিবর্তন

ডা. সাইফ হোসেন খান বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কপাল ও মুখের চামড়া কুঁচকে যাওয়া একটি স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন। ত্বকে কোলাজেন ও ইলাস্টিন নামক প্রোটিন থাকে, যা ত্বককে টান টান ও মজবুত রাখতে সাহায্য করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কোলাজেন ও ইলাস্টিন প্রোটিন কমে যায়, ফলে ত্বক ঢিলা হয়ে যায়।

২. সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি-রে)

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। নিয়মিত রোদে কাজ করলে ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয় ও ত্বকে ভাঁজ পড়ে।

৩. পানিশূন্যতা

পানি আমাদের ত্বকের জন্য খুব প্রয়োজনীয়। দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত পানি না খেলে ত্বক ম্লান হয় ও কুঁচকে যায়।

৪. ধূমপান ও অ্যালকোহল

ধূমপান ও মদ্যপান শরীরের ওপর অক্সিডেটিভ স্ট্রেস নামক বিশেষ ধরনের চাপ তৈরি করে। এসব অভ্যাস রক্তসঞ্চালন কমায় এবং ত্বকের কোষের ক্ষতি করে। ফলে দ্রুত চামড়া কুঁচকে যায়।

৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ফ্রি র‌্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করে। শরীরে যখন পর্যাপ্ত অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট থাকে না, তখন ত্বকেও এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এই পর্যায় হলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেস। অতিরিক্ত চা-কফি শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস তৈরি করে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত চা-কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যার কারণে ত্বক কুঁচকে যেতে পারে।

৬. মানসিক চাপ ও ঘুমের অভাব

সময়মতো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি ত্বকের সুস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। মানসিক চাপ ও পর্যাপ্ত ঘুমের ঘাটতি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, ফলে ত্বক ক্লান্ত দেখায়, সতেজ ভাব চলে যায়।

৭. পুষ্টির অভাব

ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে দরকার বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ লবণ (যেমন ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক ইত্যাদি)। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে ত্বক সহজেই কুঁচকে যায়।

৮. অভ্যাসগত মুখভঙ্গি

অনেকেরই বারবার কপাল কুঁচকানো বা ভ্রু কুঁচকানোর অভ্যাস থাকে। বারবার এ রকম কপাল, মুখ কুঁচকালে ত্বকে একধরনের চাপের সৃষ্টি হয়, যার কারণে স্থায়ী রেখা তৈরি হয়।

প্রতিরোধে করণীয়

ত্বকের কুঁচকে যাওয়া ঠেকাতে কিছু বিষয় নিয়মিত চর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. সাইফ।

ত্বকের যত্ন : প্রতিদিন মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। দিনে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে শোবার আগে ত্বক পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ত্বকের উপযোগী কিছু ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

খাদ্য ও পানীয় : প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাবারে প্রচুর ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছ রাখুন (ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার)। ভিটামিন সি (কমলা, লেবু, পেয়ারা), ভিটামিন ই (বাদাম, সূর্যমুখী তেল), জিংকসমৃদ্ধ (ডাল, মাছ) খাবার খাওয়া জরুরি। অতিরিক্ত ভাজা খাবার, তেলে ভাজা খাবার ও ফাস্টফুডের অভ্যাস কমাতে হবে।

জীবনযাপন : প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান। মানসিক চাপ কমাতে নিয়মিত ব্যায়াম, যোগব্যায়াম বা মেডিটেশন করুন। ধূমপান ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন।

চিকিৎসা ও পরামর্শ

ডা. সাইফ বলেন, ভাঁজগুলো যদি বেশি গভীর হয় বা দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। চিকিৎসক প্রয়োজনে মেডিকেল গ্রেড ক্রিম, লেজার থেরাপি, মাইক্রোনিডলিং, বোটক্স/ফিলার দিতে পারেন। তবে এসব চিকিৎসা অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর