সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর ভিড়ে চোরের ফাঁদ!

যশোর জেলা প্রতিনিধি / ৪৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 20, 2026
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রোগীর ভিড়ে চোরের ফাঁদ!

যশোর জেলা প্রতিনিধি : 

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অজ্ঞান পার্টি ও নারী চোর চক্রের তৎপরতা বেড়েছে। এক দিনের ব্যবধানে চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে দুই নারীকে অচেতন করে স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে একই হাসপাতালে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও কাটার চেষ্টার সময় দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পুলিশ বলছে, হাসপাতালকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় এবং তাদের ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়েন জেবুন্নেছা (৬৫) নামে এক নারী। চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাইয়ে তাকে অচেতন করে গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের রুলি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জেবুন্নেছা যশোরের চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মেয়ে আমেনাকে দেখতে এবং তার দেখাশোনা করতে এসেছিলেন তিনি।

ভুক্তভোগীর জামাতা আব্দুল হাকিম জানান, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন মেয়ের শয্যার পাশে ছিলেন জেবুন্নেছা। দুপুর ১টার দিকে এক নারী তাকে বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখিয়ে দেওয়ার কথা বলে করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচতলায় নিয়ে যান। সেখানে চেতনানাশক জাতীয় দ্রব্য খাওয়ানোর পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এ সুযোগে ওই নারী তার স্বর্ণের চেইন ও রুলি নিয়ে পালিয়ে যান বলে ধারণা করছেন তিনি।

পরে জেবুন্নেছাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, ২৪ ঘণ্টা পার না হওয়া পর্যন্ত তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চিকিৎসক দেখাতে এসে একই ধরনের ঘটনার শিকার হন সালমা বেগম (৬০)। সদর উপজেলার ইছালী গ্রামের এই নারীকে অচেতন করে তার কানের স্বর্ণের দুল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। পরে স্বজনরা হাসপাতালের অর্থোপেডিকস বিভাগের পাশ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনিও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

অন্যদিকে, গত ১০ ও ১৩ আগস্ট একই হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের নিচে স্বর্ণের চেইন ছিনতাই ও কাটার চেষ্টার সময় শিউলি (৪৫) ও নিলুফা (২১) নামে দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তাদের একজন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর গলার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। অন্যজন কাটার দিয়ে আরেক নারীর গলার চেইন কাটার চেষ্টা করছিলেন।

হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, এর আগেও বহির্বিভাগে রোগী সেজে লাইনে দাঁড়িয়ে রোগীদের ব্যাগ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে একাধিক নারীকে আটক করা হয়েছে। গত মাসে অন্তত ৩০ রোগীর ব্যাগ থেকে টাকা চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে সূত্রটির দাবি। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে যদি চুরি, ছিনতাই কিংবা অজ্ঞান পার্টির শিকার হতে হয়, তাহলে নিরাপত্তা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের সমন্বিত নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, হাসপাতালকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। রোগী ও স্বজনদের মালামাল এবং টাকা চুরির ঘটনায় মাঝেমধ্যে চক্রের সদস্যদের আটক করা হচ্ছে। তাদের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর