রমজান মাসে আমাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুমানো সব ক্ষেত্রেই বদলে যায় এক মাসে। তবে রোজা শেষে হঠাৎ করেই এক মাসের সব নিয়ম পরিবর্তন করা সহজ নয়। এটা করতে গিয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনতে পারেন। কারণ হঠাৎ করে আমাদের শরীর পরিবর্তন নিতে পারে না তাই অনেকেই অসুস্থ হয়ে যান। সুস্থ থাকতে রোজার পরে কি করা উচিত সে বিষয়গুলো হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ প্রসঙ্গে ডা. সাওয়ান্ত বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ডা. সাওয়ান্ত বলেন, রমজানের পুরো মাস রোজা রাখার ফলে শরীরের বিপাকীয় (মেটাবলিজম) প্রক্রিয়া পরিবর্তন আসে। তাই হঠাৎ করেই আগের মতো খাদ্যাভ্যাসে ফিরে গেলে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। এমনকি রোজায় আমাদের ঘুমেও পরিবর্তন আসে। একমাস পর সেটা স্বাভাবিক করতে অনেক সময় বেগ পেতে হয়। তাই রোজা শেষে হঠাৎ করে অনেক বেশি সময় ধরে ঘুমানো বা একদম কম ঘুমানো শরীরের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
কেবল এসব নয় রোজায় ব্যায়াম করার সময় এবং ধরনেও পরিবর্তন আসে। সব মিলিয়ে বলা যায় রমজান মাসের জিবনযাত্রা বাকি ১১ মাস থেকে আলাদা। তাই রোজা শেষে ঈদের দিন থেকেই সব আগের মতো না করাই ভালো। ডা. সাওয়ান্ত এই সময় কি করা উচিত সে প্রসঙ্গে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
শরীরের পরিবর্তন, ওজন, শক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখুন। যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবে খাদ্যাভ্যাস ও রুটিনে ছোটখাট পরিবর্তন আনুন।
জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
রোজার সময় শরীর একটি নির্দিষ্ট রুটিনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন উপকারী হতে পারে। ডা. সাওয়ান্তের পরামর্শ অনুযায়ী—
একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা শরীরের জন্য ভালো। তাই রোজার পরও হালকা ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটার অভ্যাস চালিয়ে যান।
খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দিন। রোজার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পুষ্টিকর খাবারকে অগ্রাধিকার দিন এবং উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার বা ভাজাপোড়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।
নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করুন, যাতে সারাদিন ক্লান্তি অনুভব না হয়।
শরীরের পরিবর্তন, ওজন, শক্তি এবং সামগ্রিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখুন। যদি প্রয়োজন মনে হয়, তবে খাদ্যাভ্যাস ও রুটিনে ছোটখাট পরিবর্তন আনুন।
রমজানের পর শরীরের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য ধৈর্য ধরে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকে বিরত থেকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব।