মানসিক চাপ নেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। নানান জটিলতায় মানসিক উদ্বেগের শিকার কমবেশি সবাই। দিন-রাত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন কাজ নিয়ে মানুষ শারিরীক এবং মানসিক চাপে পড়েন। বিশ্রাম নিয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করা যায়, তাতে মানসিক উদ্বেগ তেমন কমে না। আর তাই জেনে নিন, এমন কিছু খাবার রয়েছে যা আপনাকে মানসিকভাবে প্রশান্তি দিতে সক্ষম।
হলুদ: আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মসলা হলো হলুদ। এর রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য। যে কারণে হলুদ খেলে তা উদ্বেগ এবং বিষন্নতা কমাতে সাহায্য করে। হলুদ আমাদের শরীরে সেরোটোনিন এবং ডোপামিনের মাত্রা বাড়াতে কাজ করে। যে কারণে হলুদ খেলে তা মেজাজ ভালো রাখতে কাজ করে।
পালংশাক: যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি আমাদের মাংসপেশিগুলো টাইট হয়ে পড়ে। এই সময়ে আমরা কোনো কিছু চিন্তা করতে পারি না। ঘুমাতে সমস্যা হয় ও রক্তচাপ বেড়ে যায়। যে পুষ্টিটি এসব উপসর্গকে প্রশমিত করতে পারে তা হলো ম্যাগনেসিয়াম। কিন্তু মানসিক চাপে থাকলে ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে যায়। ‘ডায়েট ডায়াগনোসিস: নেভিগেটিং দ্য মেইজ অব হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন প্লানস’ বইয়ের লেখক ডেভিড নিকো বলেন, ‘পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। এটি মানসিক চাপ নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
ওট: প্রচুর আঁশযুক্ত ওট খাবার শরীরের নানা চাহিদা মেটায়। বিশেষত মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট তৈরিতে খুবই সহায়ক ওট। সেরোটোনিন এমন এক রাসায়নিক যৌগ যা আমাদের মস্তিষ্কে ‘ভালো লাগার’ অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এই অনুভূতি মানসিব অবসাদ দূর করতে দারুণ কার্যকর। তাই সকালের নাশতায় কিংবা রাতেও নিয়ম করে ওট খেতে পারেন।
ডার্ক চকোলেট: ডার্ক চকোলেট কেবল সুস্বাদু খাবারই নয়, এই চকোলেট আপনার মানসিক উদ্বেগ কমাতে দারুণ কার্যকরী। এতে থাকে ফ্ল্যাভোনয়েড, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। সেইসঙ্গে এতে থাকে ম্যাগনেসিয়াম। এটি স্নায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে ডার্ক চকোলেট অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, তাই পরিমিত খেতে হবে।
ক্যামোমাইল চা: উদ্বেগ এবং ঘুমের সমস্যা কমাতে দারুণ কার্যকরী হলো ক্যামোমাইল চা। এটি আমাদের জন্য ভীষণ উপকারী। এ ধরনের সমস্যায় এই চা বহু যুগ ধরে কাজ করে আসছে। ক্যামোমাইল চায়ে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যে কারণে এই চা খেলে তা উদ্বেগ জনিত অসুস্থতা কমাতে সাহায্য করে। ক্যামোমাইল চা খেলে তা আমাদের মন শান্ত রাখতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
স্যামন ফিশ: স্যামন ফিশে থাকে প্রচুর ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, এটি আমাদের মস্তিষ্কের জন্য দারুণ উপকারী। এই ফ্যাটি অ্যাসিড স্বাস্থ্যকর নিউরোট্রান্সমিটার ফাংশনের উন্নতি করতে কাজ করে। নিয়মিত স্যামন ফিশ খেলে তাই কমে আসে মানসিক উদ্বেগ। এজন্য যারা মানসিক উদ্বেগ সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য স্যামন ফিশ খেতে পারেন। এতে উপকৃত হবেন।
গাজর: নিউট্রিশন নুপটিয়ালসের প্রতিষ্ঠাতা মান্ডি এনরাইট বলেন, ‘মানসিক চাপ কমানোর অন্যতম সেরা খাবার হচ্ছে তাজা সবজি ও ফল। এরমধ্যে গাজর ও আপেল মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি চোয়ালের অনমনীয়তা দূর হয়। চিবিয়ে বা কামড়ে খেতে হয় এমন খাবার ফোকাসকে পুনর্নির্দেশিত করতে পারে এবং মানসিক চাপ কমাতে পারে।
বাদাম: কাঠবাদাম, আখরোট, চিনেবাদামে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, এবং সবচেয়ে উপকারী উপাদান ম্যাগনেশিয়াম। বাদামের এই সব উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতাকে সচল রাখতে সাহায্য করে।