ছেলেদের দীর্ঘ সময় বাইরে কাটাতে হয়। বিশেষ করে যারা বাইকে চলাফেরা করেন, হেলমেটে ঢাকা থাকায় তাদের মাথা ঘামেও বেশি। রাস্তার ধুলাবালি, গরম, ঘাম সব মিলিয়ে অনেকের অল্প বয়সেই চুল ঝরতে শুরু করে।
অথচ ত্বক বা চুলের যত্নে মেয়েরা যতোটা সচেতন, ছেলেরা ততোটা নয়। দিনের পর দিন যত্ন না নেয়ার কারণে ছেলেদের মাথার ত্বক শুষ্ক হয়ে খুশকি হয়ে যায়।
চুল ধোয়া
সপ্তাহে অন্তত দুই-তিনদিন শ্যাম্পু করতে হবে। শ্যাম্পুর পর একটি ভালো মানের কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। অনেকে মনে করেন, কন্ডিশনার শুধু মেয়েদের ব্যবহারের জন্য। এটা ভুল ধারণা। স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের জন্য সবারই চুলের আগায় সিলিকনমুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত।
চুল যদি অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে থাকে, তাহলে ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে কিছুক্ষণ জড়িয়ে রাখুন। এরপর হালকা ভেজা থাকা অবস্থায়ই সেরাম লাগিয়ে নিন।
কখনোই গরম পানি দিয়ে চুল ধোবেন না। এতে শুধু চুলের গোড়াই নরম হয় না, মাথার ত্বকেও খুশকি দেখা যায়। চুল সব সময় শুকনা রাখবেন। গরমে, ঘামে হেলমেট ভিজে গেলে সেটিও বাসায় এসেই বারান্দায় বা বাতাসে শুকিয়ে নেবেন। ভেজা হেলমেট থেকে মাথার ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণের আশংকা রয়েছে।
একটা সময় হেয়ার জেল দিয়ে স্পাইকের খুব চল ছিল। এখন হেয়ার জেলের ব্যবহার কিছুটা কমে এলেও অনেক তরুণই স্টাইলিংয়ের জন্য হেয়ার স্প্রে ব্যবহার করে থাকেন। মনে রাখবেন, এসব রাসায়নিকের ব্যবহার যতো কম করবেন, চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ততো ভালো। জেল বা স্প্রে ব্যবহার করলেও চুল দ্রুত শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
চুলে তেল
নারকেল তেল, আমন্ড তেল, জলপাই তেল, তিলের তেল, পেঁয়াজের তেল- হরেক রকম আর ব্র্যান্ডের তেলে এখন বাজার সয়লাব। তেল নিয়েও ছেলেদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করে। অথচ সুস্থ আর সুন্দর চুলের জন্য সপ্তাহে অন্তত দুইদিন তেল লাগাতেই হবে। তেলটা হালকা গরম করে ম্যাসাজ করলে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যাবে।
হেয়ার প্যাক
মেহেদি ছেলেদের চুলের জন্য খুব ভালো একটি ভেষজ উপাদান। চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী মেহেদির সাথে দিতে পারেন লেবুর রস আর মধু। এই প্যাক চুলের গোড়া শক্ত করবে। আবার চুলের মসৃণতার জন্য এক টেবিল চামচ টকদই, একটি ডিমের কুসুম, আর একটা পাকা কলা চটকে বা ব্লেন্ডারে মিশিয়ে মাথায় মেখে নিতে পারেন। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।
তবে ছেলেমেয়ে উভয়ের জন্যই চুলের পুষ্টি জোগাতে ডায়েটের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ডিম চুলের জন্য খুবই উপকারী, কারণ ডিমে আছে প্রোটিন। ডিমের পাশাপাশি সবুজ শাকসবজি, সামুদ্রিক মাছ, পনির এবং ভিটামিন-ই যুক্ত খাবার খেতে হবে।