আপেল কেটে রাখলে যেমন বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে কালচে হয়ে যায়, ত্বকের ওপর মেকআপ ব্যবহারেও ঘণ্টাখানেক পর মুখ অনেকটা কালচে দেখায়। এর মূলে রয়েছে ফাউন্ডেশনের ভূমিকা। সুন্দর বাড়ি তৈরিতে মজবুত কাঠামো দরকার, তেমনি নিখুঁত মেকআপের জন্যও ফাউন্ডেশন ভালোভাবে ব্যবহার করা দরকার। কিন্তু আমরা যে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করি তা অনেক সময় অক্সিডাইজড হয়ে যায়। ড্রাগস্টোর হোক বা হাই এন্ড, যে ব্র্যান্ডের ফাউন্ডেশনই ব্যবহার করুন, কিছুক্ষণ পরই মুখ কালচে আর মলিন হয়ে ওঠে।
সাধারণ কিছু নিয়ম মেনে মেকআপ ব্যবহার করলে ত্বকের কালচে হওয়া প্রতিরোধ করা যায়।
সঠিক শেড
আমাদের দেশে সাধারণত পিংক এবং ইয়েলো আন্ডারটোনের ত্বক দেখা যায়। ত্বকের আন্ডারটোন চিনতে শিখুন এবং সে অনুযায়ী ফাউন্ডেশনের শেড বেছে নিন। অনেকে ত্বক উজ্জ্বল দেখানোর জন্য হালকা শেড বেছে নেন। এতে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
ত্বকের ধরন
ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফাউন্ডেশন বেছে নিতে হবে। আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে অয়েল-বেসড ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। এর পরিবর্তে ওয়াটার-বেসড ফাউন্ডেশন বেছে নিন। যদি সঠিকভাবে মেকআপ করে কিংবা সঠিক শেডের মেকআপ ব্যবহারের পরও ত্বক কালচে দেখায়, তাহলে ব্র্যান্ড বদল করে দেখুন।
তাছাড়া প্রথমেই পুরু করে ফাউন্ডেশন লাগাবেন না। প্রথমে হালকা করে ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন। যদি সেটা স্বাভাবিক লাগে তাহলে আলাদা করে ফাউন্ডেশন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
প্রাইমার ব্যবহার
প্রাইমার ব্যবহার না করে কোনোভাবেই ফাউন্ডেশন ব্যবহার করবেন না। প্রাইমার ত্বকের অতিরিক্ত সেবাম প্রডাকশনকে নিয়ন্ত্রণ করে মুখের তেলতেলে ভাব দূর করে। এটি আমাদের আর্দ্রতা বজায় রেখে ত্বকের স্বাভাবিক স্কিনটোন সমানভাবে বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে মুখ সহজেই কালচে হয়ে যায় না।
সেটিং স্প্রে এবং সেটিং পাউডারের ব্যবহার
মেকআপের শেষে অবশ্যই ত্বক বুঝে একটি ভালোমানের সেটিং পাউডার ব্যবহারের মাধ্যমে মেকআপ সেট করে নিতে হবে। সবশেষে সেটিং স্প্রে দিয়ে মেকআপটি লক করে নিবেন। সেটিং স্প্রে সারাদিন মেকআপ ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এর ব্যবহারে ত্বক অনেকটাই উজ্জ্বল লাগবে দেখতে।
এর বাইরেও ত্বকের জেল্লার জন্য ভেতর থেকে গ্লো প্রয়োজন। দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া দরকার। এতে ডিহাইড্রেশনে ভুগতে হবে না।