‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই’, এক সময় ব্যাপক প্রচলিত ছিল এ কথা। এ রোগের ভয়াবহতা থেকেই মূলত মানুষের মুখে মুখে ছিল বাক্যটি। একটা সময় ছিল, যখন যক্ষ্মা হলে কোনো চিকিৎসা ছিল না। ফলে যক্ষ্মা রোগীদের মৃত্যু অবধারিত ছিল। তবে সময়ের পরিক্রমায় পরিবর্তন এসেছে। এখন আর যক্ষ্মা মানেই মৃত্যু নয়।
যক্ষা বা টিউবারকিউলোসিস (টিবি) হচ্ছে এক ধরনের সংক্রামক রোগ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এখন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে সুস্থ হওয়া যায়। তবে যক্ষ্মা রোগ একদম চিরতরে বিদায় না নিলেও এখনো টিকে আছে। আবার রোগের লক্ষণ বুঝতে না পারা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবে এখনো মৃত্যুর খবর আসে।
এ রোগ সাধারণত ফুসফুসে আক্রমণ করে থাকে। যা পরবর্তীতে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এরপর দীর্ঘস্থায়ী নানা জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই যক্ষ্মা রোগের সঠিক চিকিৎসা জরুরি। এ রোগের কয়েকটি লক্ষণ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। এবার তাহলে যক্ষ্মা রোগের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
দীর্ঘদিন ধরে কাশি: যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ হচ্ছে তিন সপ্তাহ বা এরও বেশি সময় ধরে কাশি হওয়া। সাধারণত সর্দি-কাশি সাত থেকে চৌদ্দ দিনের মধ্যে আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায়। তবে সেই কাশি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, এমনকি কোনো ওষুধেও সেরে না যায়, তাহলে সেটি হতে পারে যক্ষ্মার প্রাথমিক লক্ষণ।
কাশিতে রক্ত: যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে আক্রান্ত ব্যক্তির কাশির সঙ্গে রক্ত আসার সম্ভাবনা থাকে। যা যক্ষ্মা রোগীদের গুরুতর লক্ষণ।
বুকে ব্যথা: যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে তারা বুকে ব্যথা অনুভব করে থাকেন। কাশি দেয়ার সময় কিংবা শ্বাস নেয়ার সময় এই ব্যথা হয়। মূলত যক্ষ্মার সংক্রমণ ফুসফুসে হয় বলে এ ধরনের ব্যথা হয়।
রাতে ঘামা: এ রোগের আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। যা ঘুমের সময় হয় এবং ঘেমে শরীর ভিজে যায়।
ক্রমশ ওজন কমা: যক্ষ্মা রোগ হলে ক্রমশ ওজন কমতে থাকে। খাবারে অনীহা দেখা দেয় এবং শরীর দুর্বল হয়। যা থেকে ওজন কমতে থাকে।
ক্লান্তি বোধ: যক্ষ্মা রোগীরা সবসময় ক্লান্তি অনুভব করেন। মূলত শরীর দুর্বল হওয়ায় অল্প কাজ করতেও কষ্ট হয়।
জ্বর ও শীত অনুভব হওয়া: যক্ষ্মা রোগ হলে মাঝে মধ্যেই হালকা বা মাঝারি জ্বর হতে পারে। যা ধারাবাহিকভাবে হতে থাকে এবং দিন ও রাতে যেকোনো সময় হয়ে থাকে। আবার কোনো কারণ ছাড়াই শীত অনুভব করেন। তবে শীত রাতে বেশি অনুভব করেন। এ ক্ষেত্রে শীত অনুভব করে বা কাঁপুনি দিয়ে জ্বর হলে যক্ষ্মার লক্ষণ হতে পারে।