মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৪ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
‘কোন ডিসেম্বরে আসবেন, ক্লিয়ার করেন’, শেখ হাসিনাকে দুলু স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর, সব জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে : ডা. জুবাইদা রহমান শরীরের এই অঙ্গটি নীরবে আমাদের সুস্থ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে   সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু নীরবে থাইরয়েড ক্যানসার বাড়ছে না তো? খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

কিডনিতে বারবার পাথর হওয়ার কারণ কী, ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

প্রতিনিধির নাম / ৩৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 21, 2026
কিডনিতে বারবার পাথর হওয়ার কারণ কী, ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

কিডনিতে পাথর হওয়া মূত্রনালিজনিত একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেকের ক্ষেত্রে এটি একবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাথর অপসারণের পরও অনেক রোগীর কিডনিতে আবার পাথর তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন না আনলে এই সমস্যা পুনরায় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এ রোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, অনেকেই পাথর অপসারণের পর মনে করেন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়ে গেছে। ফলে তারা প্রতিরোধমূলক পরামর্শ মেনে চলেন না। কিন্তু এই অবহেলাই ভবিষ্যতে নতুন করে পাথর গঠনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই চিকিৎসা শেষ হওয়ার পরও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনিতে পুনরায় পাথর হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণগুলোর একটি। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শরীরের বিপাকীয় জটিলতা, পারিবারিক বা বংশগত ইতিহাস এবং শরীরে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ ক্যালসিয়াম, অক্সালেট কিংবা ইউরিক অ্যাসিড নিঃসরণও কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

যাদের একাধিকবার কিডনিতে পাথর হয়েছে, উভয় কিডনিতে পাথর রয়েছে অথবা পাথরের আকার তুলনামূলক বড়, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন রোগীদের রক্ত ও মূত্র পরীক্ষা করে পাথর তৈরির মূল কারণ শনাক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একজন ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ পরিকল্পনা অনুসরণ করাও জরুরি।

কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পানকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরীরে পানির ঘাটতি না থাকলে প্রস্রাবের মাধ্যমে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ সহজে বের হয়ে যায়, ফলে পাথর তৈরির ঝুঁকি কমে। চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাতেও পর্যাপ্ত পানি পান বা সঠিক হাইড্রেশনের ইতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমাতে হবে। খাবারের স্বাদ বাড়াতে লবণের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর ভেষজ বা প্রাকৃতিক মসলা ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাও কিডনিকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস জানিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ‘ড্যাশ’ ডায়েট অনুসরণ করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। তাই নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কিডনিতে বারবার পাথর হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর