আমাদের দেশে একটা বড় অংশের মানুষ নিজের অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশারে ভুগে থাকেন। উচ্চ রক্তচাপকে তাই নীরব ঘাতক বলা হয়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, সঠিক খাদ্যাভাসের ঘাটতি ইত্যাদি কারণে যেকোনো বয়সী মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
কারও মধ্যে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলেই আমরা ধরে নেই যে, তার রক্তচাপ বেড়ে গেছে! এমন ধারণা অবশ্য অমূলকও নয়।
উচ্চ রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে জীবনযাপন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।
ওজন কমে যাওয়া কখন দুশ্চিন্তার কারণ?ওজন কমে যাওয়া কখন দুশ্চিন্তার কারণ?
জেনে নিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু উপায়–
১. রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন। ময়দা, চিনি, সাদা ভাত, কেক, প্যাটিস, বার্গার, পাউরুটি খাওয়ার অভ্যাস কমিয়ে আনুন। ওজন যত নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, তত রক্তচাপও কম থাকবে।
২. যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের প্রত্যেক দিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের শরীরচর্চা করা উচিত। ব্রিস্ক ওয়াকিং, জগিং, সাইক্লিং ইত্যাদি যেকোনো কার্ডিও করতে পারেন। এতে শরীরে রক্তপ্রবাহ ঠিক থাকবে, হৃদযন্ত্রও সুস্থ থাকবে।
৩. লবণ গ্রহণে বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। কাঁচা লবণ একেবারেই খাওয়া যাবে না। অনেকে রান্নায় লবণ কম খেলেও পরে ঠিকই বাইরের জাঙ্ক ফুড, বিস্কুট-চানাচুর ইত্যাদি খেয়ে থাকেন। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম থাকে। তাই এসব বাইরের খাবার খাওয়া কমাতে হবে।
৪. যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের জন্য পটাশিয়াম অত্যন্ত জরুরি পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাই কলা, টমেটো, ডাবের পানি ও দইয়ের মতো খাবার রাখুন।
৫. চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করলে উপকার মিলবে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। যেমন: গরুর মাংস, খাসির মাংস, মাখন, পেস্ট্রি ইত্যাদি। এমনকি তৈলাক্ত মাছ পরিহার করে ছোট মাছ খেতে হবে।
৬. তামাকজাত দ্রব্য রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ধূমপানের অভ্যাস থাকলে সেটা বাদ দিন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, দুশ্চিন্তা কমাতে হবে। স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এতে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে প্রেশার বেড়ে যায়। তাই উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সব ধরনের দুশ্চিন্তা কমাতে হবে। নিয়মিত ইয়োগা, প্রাণায়াম ইত্যাদির চর্চা করতে হবে। দৈনিক সাত-আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।