সুস্বাদু ফল জামের উপকারিতা অনেক। এটি স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। আয়ুর্বেদ ছাড়াও বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে জাম খাওয়ার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে। তবে শুধু জাম নয়, এর বীজেও রয়েছে অনেক উপকারী দিক।
এই বীজ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভীষণভাবে উপকারী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জামের এই বীজ সহজেই রক্তে বেড়ে যাওয়া ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
জামের বীজের পুষ্টিগুণ
পুষ্টিবিদরা জানান, জামের বীজ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
এই বীজে উপস্থিত জ্যাম্বোলিন ও জাম্বোসিন রক্তে শর্করার গতি কমিয়ে দেয় এবং শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়। এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম।
এ ছাড়া এটি ইনসুলিন হরমোনের ক্ষরণ বাড়ায়। জামের বীজে প্রোফাইল্যাকটিক ক্ষমতা রয়েছে, যা হাইপারগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।
এই ফলের বীজ ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ কমাতেও সাহায্য করে। জামে ভরপুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী। এতে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে ঠিক রাখে।
জামের বীজের পাউডারে এলাজিক এসিড নামে একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তচাপের দ্রুত ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য় করে। এই বীজগুলোতে ফ্ল্যাভোনয়েড ও ফেনোলিক যৌগগুলোর মতো শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা শরীরকে ফ্রি ব়্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
কিভাবে খাবেন
প্রথমে জামের বীজগুলো ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর রোদে একটি শুকনো কাপড়ে ঢেকে শুকিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে বাইরের অংশ ফেলে ভেতরের সবুজ অংশ বের করে নিন। এই অংশটিও তিন থেকে চারদিন ধরে ভালো করে আবার রোদে দিন। শুকিয়ে গেলে এটি পেস্ট বানিয়ে পাউডার ঘরে রেখে দিন। এবার সকালে খালিপেটে দুধ বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে খান।
এতে পটাশিয়াম থাকে ভরপুর মাত্রায়। তাই হার্টের রোগীদের জন্য ভীষণভাবে উপকারী। যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্যও জাম ভীষণভাবে উপকারী।
সতর্কতা
জামের বীজে শর্করা ও চিনির পরিমাণ কম হলেও তুলনামূলক বেশি আমিষ ও ফাইবার আছে। তাই না জেনেবুঝে খাওয়ার সময় সাবধান হওয়া প্রয়োজন। খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া ভালো।