সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৩ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
সর্দি-কাশি ভেবে বসে থাকবেন না, যে লক্ষণ নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বাধ্য হয়েই জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে হয়েছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে ব্লু ইকোনমি : শিক্ষামন্ত্রী সরকারের বড় সাফল্য নির্ভর করছে স্বাস্থ্য খাতের ওপর : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু সচেতনতা ক্যাম্পেইন নিয়ে কনটেন্ট তৈরির আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৬ শিশুর ‘কোন ডিসেম্বরে আসবেন, ক্লিয়ার করেন’, শেখ হাসিনাকে দুলু স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর, সব জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

যে নিয়মে গ্রিন টি পান করলে তরতরিয়ে কমবে ওজন

প্রতিনিধির নাম / ১০৯ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : February 12, 2025
যে নিয়মে গ্রিন টি পান করলে তরতরিয়ে কমবে ওজন

শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রায় সবার জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে। ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণে শরীরে নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। তাই ওজন কমাতে সঠিক ডায়েট প্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটাবলিজম বাড়িয়ে ফ্যাট বার্নে সহায়তা করে গ্রিন টি, যা ওজন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গ্রিন টি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রেখে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। কিডনি রোগের জন্য গ্রিন টি বিশেষভাবে উপকারী। রক্তে কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমাতে গ্রিন টি একটি যাদুকরী পানীয়।

গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, বি, বি৫, ডি, ই, সি, ই, এইচ সেলেনিয়াম, ক্রোমিয়াম, জিংক, ক্যাফেইন ও মেঙ্গানিজ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান৷ যা শরীরের ওজন ঝরাতে বেশ কার্যকর।

যারা মেদ ঝরাতে চান, তারা গ্রিন টিতেই ভরসা রাখেন। নিয়ম মেনে গ্রিন টি খেলে ক্যানসার, অ্যালজাইমার্স, স্ট্রোক ও ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমে। এমনকি, ত্বকে বয়সের ছাপ ঠেকিয়ে রাখতেও গ্রিন টি-র জুড়ি মেলা ভার।

কিন্তু ঠিক মতো উপকার পেতে কতটা গ্রিন টি খাওয়া জরুরি, জানেন কি? কেউ দিনে দু’ কাপ খান, কেউ কেউ আবার বেশি উপকার পেতে পাঁচ-ছ’কাপ এই চা খেয়ে ফেলেন। না জেনে বুঝেই কম বা বেশি খেয়ে ফেলছেন না তো? কিংবা দিনের এমন সময়ে খাচ্ছেন, যে সময়ে খাওয়াটা খুব একটা স্বাস্থ্যকর নয়।

গবেষণায় জানা গিয়েছে, গ্রিন টি-র সব গুণ যদি পেতে চান তাহলে বেশ কিছু নিয়ম রয়েছে। সকলেরই ধারণা গ্রিন টি খেলেই অতিরিক্ত মেদ ঝরবে তাড়াতাড়ি। তাই যখন তখন গ্রিন টি খাওয়া চলে। গ্রিন টি সাধারণত প্রতিদিন ২ থেকে ৫ কাপের মধ্যে খাওয়া চলে। তবে এই বিশেষ চা খাওয়ারও রয়েছে কিছু নির্দেশিকা। গ্রিন টি পান করার সময় কী কী একেবারেই করবেন না, তা জেনে নিন আগে…

গ্রিন টি খাওয়ার সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হল খাওয়ার ঠিক পরে এই ভেষজ চা খেলে শরীরের ক্যালোরি বার্ন হয় দ্রুত। খাবারের প্রোটিনগুলো খাওয়ার পরই তা হজম হয় না। সময় লাগে। খাবার খাওয়ার ঠিক পরেই যদি গ্রিন টি খাওয়া হয় তাহলে তা উল্টে ক্ষতি হতে পারে।

খালি পেটে গ্রিন টি খাবেন না। কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টি খেতে হলে দুটি ভারী খাবারের মাঝখানের বিরতিতেই খাওয়া উচিত। সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে হলে কোনও ভারী খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা আগে কিংবা ২ ঘণ্টা পরে গ্রিন টি খেতে পারেন।

এই চায়ে ক্যাফিন ও ক্যাটেচিন ভাল মাত্রায় থাকে, এই যৌগগুলি বিপাকহার বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ওজন ঝরানোর জন্য গ্রিন টি খেতে হলে খাবারের মাঝে খাওয়াই শ্রেয়। খালি পেটে খেলে তেমন উপকার পাবেন না।

দিনে ৩-৫ বার গ্রিন টি খেতে পারেন, তবে তার বেশি নয়। গ্রিন টিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যেমন থাকে, তেমনই কিন্তু ক্যাফিনও থাকে। বেশি গ্রিন টি খেলে অনিদ্রার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি, শরীরের অতি প্রয়োজনীয় পদার্থগুলিও বেরিয়ে যেতে পারে।

গ্রিন টি খাওয়ার সময় মাথায় রাখবেন একদম গনগনে গরম পানি নয়, হালকা গরম পানির গ্রিন টি পান করার চেষ্টা করুন। পানি যত বেশি গরম হবে, স্বাদও তত কমতে থাকবে। এছাড়া পেট ও গলায় ব্যথাও হতে পারে।

অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেই গ্রিন টি খান। এটা ভুল ধারণা। সকালে হালকা ব্রেকফাস্টের পর বেশ কয়েক ঘণ্টার ফাঁকে গ্রিন টি খেতে পারেন। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পনিফেনল, যা পাকস্থলীর অ্যাসিডের উত্পাদনকে আরও বাড়িয়ে তোলে। হজমের প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। তাই সবসময় খাবার খাওয়ার পরই গ্রিন টি পান করুন।

আবার গ্রিন টি-র সঙ্গে মধু যোগ করে খান অনেকেই। চিনির বিকল্প হিসেবে স্বাদ যোগ করতে অনেকেই এই কাজ করেন। ফুটন্ত পানিতে গ্রিন টি ও মধু যোগ করলে তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। পানির অতিরিক্ত তাপ কমতে দিন, তারপর দারুচিনি, মধু যোগ করতে পারেন।

সকালে গ্রিন টি দিয়ে অনেকেই ওষুধ বা ট্যাবলেট খান। এর মতো ক্ষতিকারক কিছু হয় না। মেডিসিনের রাসায়নিক যৌগ গ্রিন টিয়ের সঙ্গে মিশে গিয়ে অ্যাসিডিটির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। ট্যাবলেট যদি খেতেই হয়, তাহলে জল দিয়ে খান।

দ্রুত রোগা হওয়ার চক্করে দিনে ১০ থেকে ১২ বার গ্রিন টি খাওয়া স্বাস্থ্যকর বলে মনে করলে ভুল করছেন। কোনও কিছুই অতিরিক্ত ভালো নয়। চা বা কফির মতোই গ্রিন টিতেও রয়েছে ক্যাফেইন। দিনে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তিভাব, উদ্বেগ, বিরক্তিভাবের মতো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হতে পারে। দিনে ২-৩বার গ্রিন টি পান করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ফুটন্ত পানির মধ্য়ে বহুক্ষণ ধরে গ্রিন টি-র পাতা ফোটানো অধিকাংশেরই অভ্যাস। যতক্ষণ না রঙ গাঢ় হচ্ছে, ততক্ষণ ফুটিয়ে যান। প্রাকৃতিকভাবে স্বাদযুক্ত করতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই চা বানিয়ে পান করতে পারেন।

গ্রিন টি পান করার সময় একেবারেই তাড়াহুড়ো করবেন না। অফিসের জন্য বের হওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে চা পান করলে আজ থেকেই তা বন্ধ করুন। বিশ্রামের সময় চা পান করার গ্রিন টি খাওয়ার সর্বোত্তম উপায়।

একসঙ্গে দুটি গ্রিন টি ব্যাগ যোগ করবেন না। এমন অভ্যাস থাকলে আজ থেকেই সতর্ক থাকুন। অনেকেই মনে করেন, একসঙ্গে ২টি ব্যাগ ভিজিয়ে চা খেলে বেশি মাত্রায় ক্যালোরি বার্ন হবে। ওজন ঝরবে তড়তরিয়ে! প্রতিদিন ২টি করে গ্রিন টি ব্যাগ যোগ করলে হজমের সমস্যা ও অ্যাসিডিটি হতে পারে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর