সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঝড় বা বজ্রপাতের সময় গোসল কি নিরাপদ, নাকি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়?

প্রতিনিধির নাম / ২১৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : May 14, 2025
ঝড় বা বজ্রপাতের সময় গোসল কি নিরাপদ, নাকি মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়?

কখনও তাপদাহের উত্তাপ আর কখনও ঝড়-ব্জ্রপাতের দাপট। বেশ কিছুদিন দেশের আবহাওয়া এমনই যাচ্ছে। প্রায় সময় বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। তাই এই সময় নিরাপদ থাকা উচিত। কেবল ঘরের বাইরে নয় ভেতরের সাধান থাকতে হবে। ঝড় কিংবা বজ্রপাতের সময় কিছু কাজ করলে আপনি ঘরের নিরাপদ নয় এমন বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যদি বাথরুমে কিংবা পানির সংস্পর্শে থাকেন। এমনকি রান্না ঘরের পানি দিয়ে কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। মেডিকেল নিউজ টুডের এ প্রতিবেদনে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন সতর্ক বার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাতের সময় গোসল করা: একাধিক গবেষণার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রঝড়ের সময় গোসল কিংবা পানির সংস্পর্শে কাজ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ বিদ্যুৎচমক কোনো ভবনে আঘাত করলে তা ধাতব পাইপের মাধ্যমে পানির লাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বাড়ির ভিতরে থেকেও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আপনি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানায়, বজ্রপাতের সময় গোসল করা নিরাপদ নয়। যদি বিদ্যুৎচমক ভবনে আঘাত হানে, তবে তা ধাতব পানির পাইপ বা ইলেকট্রিক লাইন ধরে গোসলের স্থানে চলে আসতে পারে। প্লাস্টিক পাইপ হলেও ঝুঁকি একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

শুধু গোসল নয়, বজ্রঝড়ের সময় বাথটাবে থাকা কিংবা হাত ধোয়া, থালা-বাসন ধোয়া—এসব কাজ থেকেও বিরত থাকা উচিত। যেকোনো ধরনের প্লাম্বিং বা পানির লাইনের সংস্পর্শে আসা বিপজ্জনক হতে পারে।

পানি ছাড়াও আরও যেসব বিষয় এড়িয়ে যেতে হবে:  

  • বাইরে থাকা: বজ্রঝড়ের সময় ঘরের বাইরে থাকা একেবারেই অনিরাপদ।
  • জানালার পাশে থাকা: জানালা ও দরজার কাছ থেকে দূরে থাকুন, সম্ভব হলে বাড়ির ভিতরের কোনো কক্ষে আশ্রয় নিন।
  • ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার: টিভি, কম্পিউটার বা চার্জে থাকা ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ল্যান্ডফোন ব্যবহার: তারযুক্ত ফোন ব্যবহার করা বিপজ্জনক, তবে মোবাইল বা কর্ডলেস ফোন নিরাপদ।
  • গাছের নিচে দাঁড়ানো: গাছ বা তার ডালপালা বজ্রাঘাতে ভেঙে পড়তে পারে।
  • কংক্রিট দেয়ালে হেলান দেওয়া: অনেক সময় কংক্রিটের ভিতরে ধাতব তার বা পাইপ থাকে যা বিদ্যুৎ পরিবাহী হতে পারে।
  • জমিনে শোয়া: বিদ্যুৎচমক মাটির উপর দিয়ে ছড়াতে পারে, তাই শোয়া বিপজ্জনক।
  • পানির আশেপাশে থাকা: পুকুর, নদী, সাগর বা সুইমিং পুল থেকে দূরে থাকুন।
বজ্রঝড়ের সময় গোসল কিংবা পানির সংস্পর্শে কাজ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। কারণ বিদ্যুৎচমক কোনো ভবনে আঘাত করলে তা ধাতব পাইপের মাধ্যমে পানির লাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে বাড়ির ভিতরে থেকেও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন আপনি।

নিরাপদ থাকবেন যেভাবে: গবেষণার পর সিডিসি ব্জ্রঝড়ের সময় নিরাপদ থাকার প্রসঙ্গে একাধিক উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।এ গুলো হলো:

  • ঘরে আশ্রয় নিন: বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত কোনো ঘরের ভিতরে চলে যান।
  • গাড়ি হতে পারে বিকল্প আশ্রয়: ঘরের মতোই বন্ধ জানালার গাড়িও নিরাপদ আশ্রয় হতে পারে।
  • শেষ বজ্রপাতের শব্দ শোনার ৩০ মিনিট পর পর্যন্ত ঘরে থাকুন। বজ্রপাত বন্ধ হলেও ঝুঁকি কিছুক্ষণ থাকতে পারে।
  • বাইরে থাকলে যা করবেন: অনেক সময় না চাইলেও ঝড় কিংবা বজ্রপাতের সময় আমাদের ঘরের বাইরে থাকতে হয়। অনেক সময় রাস্তায় থাকতে হয় যেটা নিরাপদ নয়। কিন্তু যদি বাইরে থাকতেও হয় সেক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ আপনাকে নিরাপত্তা দেবে। এগুলো হলো-
  • উঁচু পাহাড় বা টিলা থেকে নেমে আসুন।
  • একা কোনো গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না।
  • পানি বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন।
  • উপযুক্ত আশ্রয় না পেলে পায়ের পাতা একসঙ্গে রেখে, কানের উপর হাত দিয়ে, মাথা নীচু করে বলের মতো অবস্থায় বসে থাকুন।

জানালা ও দরজার কাছ থেকে দূরে থাকুন, সম্ভব হলে বাড়ির ভিতরের কোনো কক্ষে আশ্রয় নিন। ছবি: সংগৃহীত

বজ্রপাতে আক্রান্ত হলে: নিরাপদ থাকতে চাইলেও প্রায় সময় অনেকের ওপর বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতে আক্রান্ত হলেই কিন্তু মৃত্যু নয়। এক্ষেত্রেও কিছু পদক্ষেপ আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণ বাঁচাতে পারে। এগুলো হলো:-

  • প্রথমেই আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ সরিয়ে আনতে হবে।
  • জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য দ্রুত হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করা।
  • যদি শ্বাস বা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে সিপিআর শুরু করুন এবং চিকিৎসক আসা কিংবা হাসপাতালে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যান।

বর্তমানে বজ্রপাতে অনেক প্রাণহানি ঘটনা ঘটছে। এই অবস্থায় আমাদের সচেতনতাই এই সমস্যা মোকাবেলার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শগুলো মানলে বজ্রপাতের সময় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর