বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের বৃষ্টিতে কি সত্যিই ঘামাচি কমে? জানালেন চিকিৎসক প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ঢাকা মেডিকেল পরিদর্শনে উচ্ছ্বসিত সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা খাদ্যাভ্যাস নাকি ব্যায়াম : ওজন কমানোর জন্য কোনটি বেশি ভালো? এক সপ্তাহে এক কেজি ওজন কমিয়ে ফেলুন খুব সহজেই! অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে যেসব খাবার খাবেন, যেগুলো এড়াবেন জীবনে কেন প্রবেশ করে ডিপ্রেশন? মুক্তির উপায়গুলো দেখুন দেশে আরো ৩ নতুন উপজেলা ও ১টি থানা অনুমোদন চিকিৎসকদের গল্পগুজব করে কাটালে হবে না, রোগীদেরও খেয়াল রাখতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার ধাত্রী নিয়োগ দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : June 21, 2026
এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার ধাত্রী নিয়োগ দেবে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ‌৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘তিন-চার বছরের মধ্যে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে মিডওয়াইফ থাকবে। এছাড়া উপজেলা এবং জেলা পর্যায়েও পর্যাপ্ত মিডওয়াইফ থাকবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে তিন হাজারের কম মিডওয়াইফ রয়েছে। মিডওয়াইফ যা রয়েছে, তা দিয়ে চলছে না। এই সংখ্যাটা খুবই অপ্রতুল।’

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে তিন-ভাগের এক ভাগ মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়ার জন্য চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা দেশব্যাপী প্রাইমারি হেলথ কেয়ারকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ চলছে। আমরা চাই প্রাইমারি হেলথ কেয়ার শক্তিশালী হবে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে প্রিভেন্টিভ সেবা দেবে।’

ডা. জিয়াউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। আরও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র লাগবে কমিউনিটি ক্লিনিকের আদলে। তাদের কাজ হবে ব্লাড প্রেশার মাপবে, স্ক্রিনিং করবে, প্রাথমিক হেলথ চেক-আপসহ নানা বিষয়।’

তিনি বলেন, সবমিলিয়ে কথা হলো– আমরা প্রাইমারি হেলথ কেয়ারকে ঢেলে সাজাতে চাই।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ মাসের ১২ তারিখে পর্তুগালের লিসবন গিয়েছিলাম, সেখানে ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভসের ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস হলো। সেখানে ১২২ দেশ থেকে তিন হাজারেরও বেশি মিডওয়াইফ এবং ইউএনএফপিএ সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনেক দেশের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রীরাও এসেছিলেন। তিন দিনের একটা কনফারেন্স ছিল। সেখানে আমাদেরকে, আমাকে ইনভাইট করা হয়েছিল বাংলাদেশ থেকে এই কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে।

তিনি বলেন, আমরা সেখানে ঘোষণা দিয়েছি যে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার, আমরা বেশিরভাগ জোর দিচ্ছি আমাদের দেশের প্রাইমারি হেলথকেয়ারকে শক্তিশালী করার জন্য। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা যেটা প্রথাগতভাবে ট্রিটমেন্ট সেন্ট্রিক (চিকিৎসা নির্ভর), এইটাকে কীভাবে প্রিভেনশন সেন্ট্রিক (রোগ প্রতিরোধ নির্ভর) করা যায়- এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই নিয়ে আমি কথা বলেছি। আমরা বলেছি যে বাংলাদেশ আগামী তিন থেকে চার বছর সময়ের মধ্যে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে। যাতে করে আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে প্রত্যেকটা মানুষের, বিশেষ করে প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যসেবাকে প্রত্যেকটা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারি। এছাড়াও আমরা ২৫ হাজার মিডওয়াইফ আমরা নিয়োগ দেবো আগামী তিন থেকে চার বছরে পর্যায়ক্রমে।

জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো আমাদের কোনো মা তার যখন স্বাভাবিক ডেলিভারি হবে তখন তাকে যেন একটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া যায়। যাকে আমরা প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট বলছি, প্রত্যেকটা ইউনিয়নে একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট হবে। শহরের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডেও একটি করে প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট হবে। এই প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিটে স্বাভাবিক যে ডেলিভারিগুলো সেগুলো এখানেই হবে। প্রতিটি প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিটে অন্তত দুজন করে মিডওয়াইফ কর্তব্যরত থাকবেন।

পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনা ও গাফিলতির কারণে টিকা কর্মসূচি ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী সংগ্রহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, সরকারের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট। তাই এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই।

হাম নিয়ে তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। কারণ, কী কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে তা সরকারের কাছে স্পষ্ট।

পূর্ববর্তী সরকারের কোনো গাফিলতি ছিল কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের গাফিলতির কারণেই ২০২৪ সালের টিকাদান কার্যক্রমের একটি পূর্ণাঙ্গ রাউন্ড মিস হয়েছে। ভ্যাকসিন সংগ্রহ হয়নি, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও কেনা হয়নি। এসব ক্ষেত্রে গাফিলতি ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি বর্তমানে পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাদ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পদ্ধতিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিক অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়।

তিনি বলেন, ডিপিপিগুলো দ্রুত অনুমোদন পাবে এমন ধারণা থেকে ওপি পদ্ধতি বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক ডিপিপির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি অনুমোদন ও প্রকল্প কার্যালয় গঠন করা সম্ভব হয়নি। ফলে আগের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেও নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, এর ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে, যার বোঝা এখনো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।

এই সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে দ্রুত ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর