মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
খাদ্যাভ্যাস নাকি ব্যায়াম : ওজন কমানোর জন্য কোনটি বেশি ভালো? এক সপ্তাহে এক কেজি ওজন কমিয়ে ফেলুন খুব সহজেই! অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে যেসব খাবার খাবেন, যেগুলো এড়াবেন জীবনে কেন প্রবেশ করে ডিপ্রেশন? মুক্তির উপায়গুলো দেখুন দেশে আরো ৩ নতুন উপজেলা ও ১টি থানা অনুমোদন চিকিৎসকদের গল্পগুজব করে কাটালে হবে না, রোগীদেরও খেয়াল রাখতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট : ডা. জুবাইদা রহমান পুরোনো মেডিকেল কলেজগুলোতে ‘ক্রিটিক্যাল কেয়ার’ কোর্স চালুর আহ্বান ডা. জাহিদ হোসেনের সন্তানের আবেগ বুঝতে বাবাদের যা করা উচিত নারায়ণগঞ্জে ২৮ জুন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পাবে সোয়া ১ লাখ শিশু

৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট : ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 1, 2026
৩৮ জেলায় নেই আইসিইউ, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট : ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ডা. জোবায়দা রহমান বলেন, দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ক্রিটিক্যাল কেয়ার বা নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) সেবার সংকট। বর্তমানে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য ক্রিটিক্যাল কেয়ার বেড রয়েছে মাত্র ১.৭টি এবং সাধারণ হাসপাতাল শয্যা রয়েছে মাত্র ৯টি। ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮টি জেলায় কোনো ধরনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। এছাড়া দেশের মোট ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক।

বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিনের (বিএসসিসিএম) জাতীয় সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমাদের দেশের ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করেন। কিন্তু ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটগুলো মূলত বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে কেন্দ্রীভূত। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের নবজাতক, অন্তঃসত্ত্বা মা, নিউমোনিয়া বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বয়োবৃদ্ধ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে শুধু শয্যার অভাবই নয়, রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (যেমন– অ্যানাস্থেটিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট, নিউরোলজিস্ট), দক্ষ নার্স ও বিশেষায়িত সরঞ্জামের তীব্র সংকট। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও এ পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও সংকল্প নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উন্নত অ্যাম্বুলেন্স সেবার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘গুরুতর রোগীদের জন্য দূরত্ব ও যানবাহন একটি বড় অন্তরায়। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাৎক্ষণিক আইসিইউ সেবা দেওয়া সম্ভব না হলেও, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে রোগীদের দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে আনা সম্ভব। তাই প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিট নিশ্চিত করা জরুরি।’

সীমাবদ্ধতার মাঝেও দেশের চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও আমাদের চিকিৎসক ভাই-বোনেরা দিনরাত পরিশ্রম করে রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন এবং অনেক পরিবারের আশার আলো বাঁচিয়ে রাখছেন।’

একটি মৃত্যু যেন কোনো পরিবারকে সর্বশান্ত না করে, সেজন্য আগামীতে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যা সেবার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন ডা. জুবাইদা রহমান।

অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. এফএম সিদ্দিকী, বিএসসিসিএমের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আরিফ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. জাফর ইকবাল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসমীমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর