সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:০৩ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নীরবে শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস, যেসব লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

প্রতিনিধির নাম / ৫৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : July 21, 2026
নীরবে শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস, যেসব লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

হেপাটাইটিস অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই দীর্ঘদিন শরীরে বাসা বাঁধে। তাই একে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। তবে কিছু সতর্ক সংকেত দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি। এনডিটিভির প্রতিবেদনে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. রাজেশ বাথিনি হেপাটাইটিস নিয়ে সচেতন করেছেন।

যে লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে

➔ চোখ বা ত্বক হালকা হলুদ হওয়া হেপাটাইটিসে সাধারণ ঘটনা। কিন্তু এক-দুই দিনের মধ্যে যদি হলুদ রং দ্রুত গাঢ় হয়ে যায়, প্রস্রাবের রং অনেক বেশি গাঢ় হয় এবং পায়খানার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়, তাহলে এটি লিভারের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে।

➔ লিভার রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ, যেমন অ্যামোনিয়া, অপসারণ করতে না পারলে তা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। একে বলা হয় হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি। রোগীর অসংলগ্ন কথা বলা, অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, আচরণে পরিবর্তন বা হাত কাঁপা দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না হলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারেন।

➔ রক্ত বমি বা কালো পায়খানা দেখা দিলেই সবধান হতে হবে। এটি পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণের লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্তও দেরি না করে জরুরি বিভাগে যেতে হবে।

➔ মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, সামান্য আঘাতেই বড় কালশিটে পড়া এসব ইঙ্গিত দেয় যে লিভার ঠিকভাবে রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরি করতে পারছে না।

➔ পেটে পানি জমা বা সংক্রমণের কারণে এমন হতে পারে।

এটি গুরুতর জটিলতার লক্ষণ।

➔ উচ্চ জ্বর ও কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসলেও সাবধান হতে হবে। লিভারের সমস্যার পাশাপাশি শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

➔ প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া কিডনিও আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ হতে পারে, যা গুরুতর লিভার রোগের একটি জটিলতা।

➔ এ ছাড়াও অবিরাম বমির কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, যা লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

ঝুঁকিতে যারা

বিশেষজ্ঞদের মতে সবার হেপাটাইটিস সবার শরীরে সমানভাবে সমস্যা দেখা দেয় না। অনেকেই বেশি ঝুঁকিতে থাকেন আর এ তালিকায় আছে গর্ভবতী নারী বিশেষ করে হেপাটাইটিস ই আক্রান্তরা। বয়স্ক ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে থাকেন। আগে থেকেই লিভারের রোগ আছে এমন রোগীদের বিষয়েও সতর্ক থাকতে হয়। ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঝুঁকি রয়েছে।

কেন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি?

ডা. রাজেশ বাথিনি বলেন, গুরুতর ক্ষেত্রে লক্ষণ শুরুর কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাকিউট লিভার ফেইলিউর বা তীব্র লিভার বিকলতা দেখা দিতে পারে। লিভারের নিজে থেকে সুস্থ হওয়ার ক্ষমতা থাকলেও একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর সেই ক্ষমতা হারিয়ে যায়। তখন নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) বা লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। তাই সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে যা করবেন

অনেকেই বিপদ সংকেতগুলো দেখা দেওয়ার পর ঘাবড়ে যান আবার কেউ শান্তভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেন। বিপদ সংকত দেখা দিলেই সব শেষ না। জটিল সমস্যাগুলো দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, বিশেষ করে বেশি মাত্রায় প্যারাসিটামল নেওয়া যাবে না। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। তবে বমির কারণে পানি রাখতে না পারলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সমস্যা জটিল হলে সময় নষ্ট না করে প্রতিটি পদক্ষেপ চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কাজ করাই ভালো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর