নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন আনার পরিকল্পনা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ১১টি মেশিন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দরিদ্র মানুষের জন্য ক্যান্সারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ‘৮টা ফুল সেটের কেমোথেরাপির মেশিন নষ্ট হয়েছিল। ১৭ রেডিওথেরাপি কেনা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসব মেশিন স্থাপন করা হলে ঢাকার বাইরে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ বাড়বে। এতে রোগীদের চিকিৎসার জন্য বারবার ঢাকায় আসার প্রয়োজন কমবে এবং দেশের ভেতরেই তুলনামূলক কম খরচে রেডিওথেরাপি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এদিকে দেশে রোবটিক সার্জারির জন্য ১০টি মেশিনের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে এ বছর পাঁচটি মেশিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব মেশিন চালু হলে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে রোবটিক সার্জারির জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, পরিবার পরিকল্পনা খাতকে শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী ব্যাপক জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী নিয়ে প্রচারাভিযান শুরু করা হবে। এক মাসব্যাপী এ কর্মসূচিতে র্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে। শুধু প্রচার-প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবার পরিকল্পনার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গত কয়েক দিন ধরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছেন। দেশের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে নানা ধরনের কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে মানুষ পরিবার পরিকল্পনায় উদ্বুদ্ধ হন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু মুখে বলব না, সঙ্গে আমরা সব মেটেরিয়াল সাপ্লাই করব। ট্যাবলেট, কন্ট্রাসেপটিভস, প্যাড—পরিবার পরিকল্পনার যা যা আছে, সবকিছু ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব।
তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান অনুসরণ করতে হয়। এসব প্রক্রিয়ায় সময় লাগে। অতীতে অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের শুরু থেকে এর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে সরকারের অন্যতম দুর্বল জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। জন্মহার কমানোর ক্ষেত্রেও নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই দেশে রোগীদের চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ধরণ পরিবর্তন এবং ডেঙ্গু পরবর্তী কার্ডিয়াক জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসকদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস প্রমুখ।