বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
ক্যান্সার চিকিৎসায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন, রোবটিক সার্জারির ৫টিও এ বছর ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে  ৬ জনের মৃত্যু একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন ২ কোটি শিশু হামের টিকার আওতায়, এক মাসে আরও ৩৫ লাখকে টিকা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার সরকারের ওজন কমাতে কেন এই পাঁচ চা খাবেন? নারীদের হার্ট অ্যাটাকের গোপন ৪ সংকেত, যা অবহেলা করলেই বিপদ নতুন গবেষণা, গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে প্রতিবন্ধী হতে পারে শিশু এলপিজির সংকট নেই, মজুতদারি করলে ব্যবস্থা : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হৃদয়ের সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা যাবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন আশার আলো ‘কিউডেঙ্গা’, কতটা কার্যকর এই টিকা?

প্রতিনিধির নাম / ৬২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 17, 2026
ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন আশার আলো ‘কিউডেঙ্গা’, কতটা কার্যকর এই টিকা?

তাকেদার তৈরি ডেঙ্গুর টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ ২০২৭ সালের শুরুতে বাজারে আসার কথা রয়েছে। তবে এই টিকা নেওয়ার পর ডেঙ্গু শনাক্তের বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে টিকা নেওয়ার পর ডেঙ্গু জ্বরের প্যানেল টেস্ট করালে ফল পজিটিভ আসতে পারে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কিউডেঙ্গা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ডেঙ্গু ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম হয়। টিকাটি ডেঙ্গুর চার ধরনের ভাইরাস—ডিইএনভি-১, ডিইএনভি-২, ডিইএনভি-৩ ও ডিইএনভি-৪—এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা তৈরির জন্য তৈরি করা হয়েছে।

কিউডেঙ্গা কীভাবে কাজ করে?

কিউডেঙ্গায় দুর্বল বা দুর্বলীকৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ডেঙ্গু ভাইরাসকে চিনতে শেখে এবং এর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ও টি-সেল তৈরি করে। অর্থাৎ, টিকাটি প্রাকৃতিক সংক্রমণের মতো প্রতিরোধী ব্যবস্থা তৈরি করতে সহায়তা করে, তবে স্বাভাবিকভাবে ডেঙ্গু রোগ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এটি দেওয়া হয় না।

ডেঙ্গু কীভাবে শনাক্ত করা হয়?

ডেঙ্গু শনাক্ত করতে রোগীর উপসর্গ, অসুস্থ হওয়ার সময়কাল এবং বিভিন্ন পরীক্ষার ফল বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—

এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা: ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে এই পরীক্ষা করা হয়। এতে ডেঙ্গু ভাইরাসের এনএস১ প্রোটিন শনাক্ত করা হয়।

ডেঙ্গু পিসিআর পরীক্ষা: রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন বা আরটি-পিসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে ডেঙ্গু ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান বা আরএনএ শনাক্ত করা হয়। সক্রিয় সংক্রমণ শনাক্তে এটি গুরুত্বপূর্ণ।

ডেঙ্গু আইজিএম পরীক্ষা: ডেঙ্গু সংক্রমণের পর শরীর যে ইমিউনোগ্লোবুলিন এম বা আইজিএম অ্যান্টিবডি তৈরি করে, এই পরীক্ষায় তা শনাক্ত করা হয়।

ডেঙ্গু আইজিজি পরীক্ষা: শরীরে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে তৈরি আইজিজি অ্যান্টিবডি শনাক্ত করা হয়। আগের ডেঙ্গু সংক্রমণ বা টিকার মাধ্যমে তৈরি প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি বোঝার ক্ষেত্রেও এই পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

টিকা নেওয়ার পর ডেঙ্গু পরীক্ষা কি পজিটিভ হতে পারে?

গবেষণা অনুযায়ী, কিউডেঙ্গা নেওয়ার পর কিছু মানুষের ডেঙ্গু আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসতে পারে। কারণ টিকাটি শরীরে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি করে।

তবে সক্রিয় ডেঙ্গু সংক্রমণ শনাক্তের জন্য ব্যবহৃত এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বা আরটি-পিসিআর টিকা নেওয়ার কারণে পজিটিভ হওয়ার কথা নয়। এসব পরীক্ষা মূলত শরীরে সক্রিয় ভাইরাস বা ভাইরাসের নির্দিষ্ট উপাদান শনাক্ত করে।

এনএস১ পরীক্ষায় কি প্রভাব পড়বে?

গবেষণায় এখন পর্যন্ত টিকা নেওয়ার সঙ্গে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় মিথ্যা পজিটিভ ফল পাওয়ার কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। কারণ এই পরীক্ষা সক্রিয় ডেঙ্গু সংক্রমণের সময় ভাইরাসের এনএস১ প্রোটিন শনাক্ত করে।

পিসিআর পরীক্ষার ক্ষেত্রে কী হবে?

পিসিআর পরীক্ষায় ডেঙ্গু ভাইরাসের জেনেটিক উপাদান শনাক্ত করা হয়। তাই টিকার কারণে নিষ্ক্রিয় বা টিকার উপাদান থেকে সাধারণত পিসিআর পরীক্ষায় সক্রিয় ডেঙ্গু সংক্রমণের মতো ফল আসার কথা নয়।

আইজিজি পরীক্ষায় প্রভাব পড়তে পারে

কিউডেঙ্গা নেওয়ার পর আইজিজি অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়ায় এই পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসতে পারে। তাই কোনো ব্যক্তির টিকা নেওয়ার ইতিহাস জানা না থাকলে শুধু আইজিজি পজিটিভ ফল দেখে তার সক্রিয় ডেঙ্গু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

অন্যদিকে, আইজিএম পরীক্ষা মূলত সাম্প্রতিক ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। টিকা নেওয়ার পর এই পরীক্ষার ফল কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে, তা রোগের সময়কাল ও অন্যান্য পরীক্ষার ফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।

টিকা নেওয়ার পর কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?

টিকা নেওয়ার পর কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, বারবার বমি, পেটে ব্যথা, রক্তপাতের লক্ষণ বা গুরুতর ডেঙ্গুর মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর আগে চিকিৎসককে কী জানাবেন?

ডেঙ্গুপ্রবণ দেশগুলোতে টিকা নেওয়ার পর জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফল সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর আগে চিকিৎসককে সাম্প্রতিক টিকা নেওয়ার তথ্য জানানো উচিত।

চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনার সময় জানতে পারেন—

* সম্প্রতি ডেঙ্গুর টিকা নেওয়ার বিষয়টি জানানো প্রয়োজন কি না;

* বর্তমান অবস্থায় কোন ডেঙ্গু পরীক্ষা সবচেয়ে কার্যকর;

* টিকার কারণে অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল প্রভাবিত হতে পারে কি না;

* পুনরায় পরীক্ষা করার প্রয়োজন আছে কি না;

* উপসর্গের পেছনে অন্য কোনো সংক্রমণ রয়েছে কি না।

কিউডেঙ্গার মূল উদ্দেশ্য হলো শরীরে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা। তাই টিকা নেওয়ার পর কিছু অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় পজিটিভ ফল আসতে পারে। তবে সক্রিয় ডেঙ্গু সংক্রমণ শনাক্তে ব্যবহৃত এনএস১ অ্যান্টিজেন ও পিসিআর পরীক্ষার ফল টিকার কারণে পজিটিভ হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত নেই। এজন্য ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর সময় টিকা নেওয়ার ইতিহাস চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর