প্রস্রাব হচ্ছে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তিয় প্রক্রিয়া। প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ক্ষতিকর যাবতীয় সব উপাদান নিঃসরণ হয়। এ কারণে সুস্থ-সবল থাকা যায়। তবে কেউ কেউ আবার কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাবে যান। যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। আর বারবার প্রস্রাব হতে পারে ভয়ানক কিছু রোগের ইঙ্গিত।
একজন মানুষের দিনে প্রায় তিন লিটার পরিমাণ প্রস্রাব স্বাভাবিক। কিন্তু এর থেকে বেশি ভালো নয় বলে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসক রুদ্রজিৎ পাল। এ চিকিৎসক আরও জানিয়েছেন, প্রতি ঘণ্টায় একবারের বেশি এবং রাতে একবারের বেশি প্রস্রাব হলে সতর্ক হতে হবে। হতে পারে ভয়ানক কোনো রোগের লক্ষণ হিসেবে বারবার প্রস্রাব হচ্ছে। এবার তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক।
ডায়াবেটিসে সতর্কতা: ডায়াবেটিস হচ্ছে অত্যন্ত জটিল একটি অসুখ। এ রোগে আক্রান্ত হলে বারবার প্রস্রাব হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের রক্তে মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকে। আর শরীর তা মূত্রের মাধ্যমে নিঃসরণ করতে চায়। এ কারণে বারবার প্রস্রাব হয়। এ জন্য কিছুক্ষণ পরপর প্রস্রাব হলে অবশ্যই চিকিৎসকের দ্বারস্থ হতে হবে।
ইউরিনারি ট্র্যাক্টের ইনফেকশন (ইউটিআই): ইউটিআই হলেও বারবার প্রস্রাব হয়ে থাকে। একইসঙ্গে প্রস্রাবের সময় জ্বালা-পোড়া ও যন্ত্রণা হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশপাশি পেট ব্যথা ও জ্বরের সম্ভাবনা থাকে। আপনার মধ্যে যদি এসব লক্ষণ থাকে তাহলে কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অন্যাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যা থেকে কিডনি সংক্রান্ত অসুখও হতে পারে।
প্রস্টেটের সমস্যা: বয়স কিছুটা বাড়ার সঙ্গে পুরুষদের প্রস্টেট বড় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে প্রস্রাবও বেড়ে থাকে। কেননা, এ রোগে ভুক্তভোগীদের সব প্রস্রাব একবারে ক্লিয়ার হতে চায় না। আবার অনেক সময় দেখা যায় প্রস্টেট বড় হলে প্রস্রাবও বন্ধ হয়। এ সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনে সুস্থ হওয়া সম্ভব।
স্পাইনাল কর্ডের সমস্যা: বর্তমান সময় অধিকাংশ মানুষই দিনভর ঘরে বসে কাজ করেন। এ কারণেই জটিলতা বাড়ছে। যা থেকে সুষুম্নাকাণ্ড বা মেরুরজ্জুতে সমস্যা হচ্ছে। নার্ভগুলো ঠিকঠাক কাজ করতে পারে না। কেউ কেউ এসব কারণে প্রস্রাবও অনেক সময় আটকে রাখতে পারেন না। বারবার প্রস্রাব পায়। আবার পিঠে, কোমরে ব্যথা হয়। এ জাতীয় সমস্যা হলে গুরুত্বের সঙ্গে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
কিডনিতে বা ইউরিনারি ট্র্যাক্টে পাথর: পানি পানের পরিমাণ যদি কম হয় তাহলে অনেক সময় কিডনিতে পাথর হয়। সেই পাথর আবার মূত্রনালীতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তা থেকে বারবার প্রস্রাব পায়। প্রস্রাবের সময় তীব্র ব্যথা হতে পারে। কখনো কখনো রক্তও বের হতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।