রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
Banner

কান পাকা থেকে মুক্তির উপায়

প্রতিনিধির নাম / ৭০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : February 13, 2025
কান পাকা থেকে মুক্তির উপায়

কানপাকা খুব ছোট রোগ হলেও সঠিক সময় চিকিৎসা না করা হলে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। অসচেতনতা কানপাকা রোগের একটি বড় কারণ। সমীক্ষায় দেখা গেছে, দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি হয়। কানে পানি ঢুকলে কান পাকে, এ ধারণা ভুল। আগে থেকে যদি কারও মধ্যকর্ণে বা কানের পর্দায় ফুটো থাকে, তাহলে পানি ঢুকলে কান পাকে।

যাদের আগে থেকে কান পাকার সমস্যা, তাদের কানে পানি ঢুকলে সমস্যাটি আরও খারাপ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তবে যাদের এ ধরনের সমস্যা নেই, তাদের কানে পানি প্রবেশ করলেও কান পাকার আশঙ্কা নেই। তবে কান বন্ধ ভাব থাকতে পারে।

কান পাকা যেহেতু মধ্যকর্ণের সংক্রমণ, তাই এতে কানের পর্দা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মধ্যকর্ণের সংক্রমণ, লাল ও ফোলার জন্য এ সমস্যা হয়। কানের পর্দার ভেতরের দিকে মধ্যকর্ণ থাকে। ক্ষণস্থায়ী কান পাকা সাধারণত ঠান্ডা লাগা থেকে কানে ব্যথা নিয়ে শুরু হয়। এটি তিন মাসের বেশি চলতে থাকলে দীর্ঘমেয়াদি কান পাকার সমস্যা হয়।

কান পাকার কারণ

আমাদের সবার খুলির মধ্যে ইউস্টেশিয়ান টিউব নামের একটা নল আছে, যার এক মাথা থাকে মধ্যকর্ণে, আরেক মাথা নাকের পেছনে অবস্থিত ন্যাজোফেরিংস নামক স্থানে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই নলটি খাটো, প্রশস্ত এবং একদম সোজাসুজি থাকে। তাই মায়েরা বুকের দুধ অথবা বোতলের দুধ কিংবা কোনো তরল পদার্থ খাওয়ানোর সময়, শিশুদের মাথার দিকটা একটু উঁচু করে না ধরলে এই তরল কিছুটা হলেও মধ্যকর্ণে চলে যেতে পারে। এ থেকে পরে মধ্যকর্ণ সংক্রমিত হয়ে কান পাকতে পারে।

লক্ষণ

পুঁজ বের হওয়াই কান পাকার লক্ষণ। এই তরল দুর্গন্ধযুক্ত বা দুর্গন্ধহীন হতে পারে। অনেক সময় পুঁজ রক্তমিশ্রিত থাকতে পারে। কান পাকা রোগের মধ্যে একটি ধরন আছে, যেখানে কান কিছুদিন শুকনা থাকে, আবার কিছুদিন পরপর ভেজা অর্থাৎ পানি বা পুঁজ বের হয়। আরেক ধরনের কান পাকা রোগে কান কখনোই শুকায় না। কানে কম শোনা ও বন্ধ বন্ধ অনুভূতি লাগা, এমনকি সারাক্ষণ অস্বস্তি বোধ হওয়া। কানে বা মাথার ভেতরে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া, মাথা ঘোরা, ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। হঠাৎ প্রদাহে অনেকের কানে তীব্র ব্যথাসহ জ্বর আসতে পারে।

চিকিৎসা

প্রচুর পরিমাণে পুঁজ পড়াসহ কান পাকার অন্যান্য লক্ষণ থাকলে রোগীকে মুখে খাওয়ার অ্যান্টিবায়োটিক, কানে অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ, বয়সভেদে নাকের ড্রপ এবং অ্যান্টিহিস্টামিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। অবশ্যপালনীয় কিছু নিয়মও মেনে চলতে বলা হয়। যেমন ডুব দিয়ে গোসল না করা, সাঁতার না কাটা। গোসলের সময় ইয়ার প্লাগ অথবা নারিকেল তেলভেজা তুলা কানে দিয়ে গোসল করা। ঠান্ডা পরিহার করা, ফ্রিজের পানি, আইসক্রিম না খাওয়া। অযথা কান পরিষ্কার না করা। কানের ভেতর মোরগের পাখনা, কচুর ডগা, ম্যাচের কাঠি, কলমের মুখ ইত্যাদি ঢুকিয়ে পরিষ্কার করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এ ধরনের চিকিৎসাতেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কানের পর্দার ছিদ্রও বন্ধ হয়ে যায়। যদি পর্দার ছিদ্রটা বড় হয় এবং বারবার পুঁজ পড়ে, তাহলে অনেক সময় ওষুধে কাজ হয় না। সে ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। ছয় মাসেও যদি জোড়া না লাগে, কানে কম শোনে, তাহলে ছোট একটা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পর্দা জোড়া লাগিয়ে দেওয়া হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কান শুকনো থাকতে হবে।

কানের সংক্রমণ হলে শুরুতেই যথাযথ চিকিৎসা করানো হলে কান পাকা প্রতিরোধ করা সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর