নারীর জীবনে গর্ভকালীন একটি কঠিন সময়। এ সময় গর্ভস্থ শিশু ও মা উভয়কেই সুস্থ থাকতে হয়। মাকে কেন্দ্র করে গর্ভের শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা অনেকাংশে নির্ভর করে। গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নারীর জন্য অত্যন্ত মারাত্মক ও ঝুঁকির বিষয়। তাই এ সময় সতর্ক থাকা ব্যতীত বিকল্প কোনো পথ নেই।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদা ইয়াসমিন সুমি মনে করেন, গর্ভাবস্থা একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বিভিন্ন ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। নতুন মা এবং নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ সময় প্রয়োজন কিছু সতর্কতা। যেমন:
১. অন্তঃসত্ত্বা মায়ের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের উপর গর্ভে শিশুর সুস্থতা নির্ভর করে। তাই অন্তঃসত্ত্বা মাকে সতর্ক এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে।
২. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এতে মা ও শিশু সুস্থ থাকবে।
৩. এ সময় চা, কফি যতটা সম্ভব কম পান করতে হবে।
৪. এমন পোশাক পরিধান করতে হবে, যাতে চলাফেরার ক্ষেত্রে অস্বস্তি না হয়। এ ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা সুতি কাপড় পরিধান করা যেতে পারে।
৫. শরীর খারাপ লাগলে বিশ্রামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে। অন্তঃসত্ত্বা মাকে বিভিন্ন মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকতে হবে।
৬. ভাজা পোড়াজাতীয় খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে দিতে হবে।
৭. খাদ্যতালিকায় সহজপাচ্য এবং তরল খাবার বেশি রাখতে হবে।
৮. গর্ভকালীন মায়ের পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। পানিশূন্যতা থেকে অনেক রোগও হতে পারে। পর্যাপ্ত পানি, ফলের রস ও স্যুপ পানিশূন্যতা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
৯. ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই পানির বোতল সঙ্গে নিতে হবে ।
১০. প্রতিদিন অন্তত একবার গোসল করতে হবে। এতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া সহজ হবে।
১১. প্রতিটি গর্ভবতীর নারীর শারীরিক অবস্থা ভিন্ন ভিন্ন। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
১২. শরীর বেশি খারাপ লাগলে, চোখে ঝাপসা লাগলে, গর্ভস্থ শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।