আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার থাকে, যা স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। যা খাওয়া হয় তা শরীর, মন ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। এ জন্য খাদ্যতালিকায় সচেতন হওয়া জরুরি। খাবার যদি স্বাস্থ্যকর না হয়, তাহলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। এরইমধ্যে অনেকের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো নানা অসুখ থাকে। যা নিরাময়ে অনেক চেষ্টা করা হয়।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি জানিয়েছেন, সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যায় খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনা উচিত। সঠিক খাবার শুধু পুষ্টি জোগায় না, বরং ওষুধের মতো কাজ করে। তিনি বলেন, আপনার পছন্দের খাবারগুলো আপনাকে কেবল শক্তিই সরবরাহ করে না, বরং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা, মেজাজ ও ব্যথার ওপর প্রভাব ফেলে।
এ চিকিৎসক উচ্চ রক্তচাপের জন্য বিট খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কেননা, এতে নাইট্রেটের পরিমাণ বেশ থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ওটস খাওয়ার কথা বলেন। এতে দ্রবণীয় ফাইবার বিদ্যমান। আবার উদ্বেগ কমাতে ক্যামোমাইল চা এবং বিষণ্নতা কাটাতে ব্লুবেরি লড়াই করে বলে জানিয়েছেন ডা. সৌরভ।
রক্তচাপের জন্য বিটরুট:
বিশ্বজুড়ে লাখো লাখো মানুষের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি ব্যর্থতার মতো দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার প্রধান কারণ। উচ্চ রক্তচাপ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ডা. সৌরভ বলেন, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিটরুট ভালো। নাইট্রেট সমৃদ্ধ বিট রক্তনালীকে প্রসারিত করে, রক্ত প্রবাহ উন্নত ও রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ২০১৭ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিটরুটের রস সিস্টোলিক রক্তচাপ ৪-৫ মিমিএইচজি কমাতে সক্ষম।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রেণে ওটস:
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ওটস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সৌরভ। তিনি জানিয়েছেন, ওটস দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ, বিশেষ করে বিটা গ্লুকান, যা ক্লুকোজ শোষণকে ধীর করে তুলে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সহায়তা করে। ২০২২ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওটস খাওয়া টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে।
উদ্বেগের জন্য খাবার:
মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে এমন খাবার সম্পর্কেও কথা বলেছেন ডা. সৌরভ। তিনি উদ্বেগ কমাতে ক্যামোমাইল চা পানের পরামর্শ দিয়েছেন। এই চা-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শান্ত করে পানকারীকে। এতে অ্যাপিজেনিন থাকে, যা মস্তিষ্কের রিসেপ্টরগুলোর সঙ্গে আবদ্ধ হয়ে শিথিলতা বৃদ্ধি করে।
বিষণ্নতার জন্য ব্লুবেরি:
বিষণ্নতা মোকাবিলায় বিকল্প উপায় হচ্ছে ব্লুবেরি। এই ফলে ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। যা আপনার মেজাজ সংশ্লিষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতায় ‘রেড মিট’:
আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তাল্পতা দূর করতে ‘রেড মিট’, অর্থাৎ, লাল মাংস (গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ মাংস আয়রনের সর্বোত্তম উৎস, যা শরীর দক্ষতার সঙ্গে শোষণ করে। প্রতি ৩ আউন্স লাল মাংসে প্রায় ২.৭ মিলগ্রাম পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায়। যা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রায় পূরণ করে থাকে। তবে উদ্ভিতভিত্তিক খাদ্যতালিকা পছন্দের ব্যক্তিদের মসুর ডাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. সৌরভ।
পিঠ ব্যথায় হলুদ:
পিঠের ব্যথা হলে হাতের কাছে হলুদ কাজে আসবে আপনার। হলুদ পিঠের ব্যথা উপশম করতে পারে। এর শক্তিশালী উপাদান প্রদাহবিরোধী। হলুদ দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।