বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
‘কোন ডিসেম্বরে আসবেন, ক্লিয়ার করেন’, শেখ হাসিনাকে দুলু স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর, সব জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে : ডা. জুবাইদা রহমান শরীরের এই অঙ্গটি নীরবে আমাদের সুস্থ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে   সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু নীরবে থাইরয়েড ক্যানসার বাড়ছে না তো? খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

লুকোচুরি খেলতে গিয়ে যেন বিপদ না হয়, শিশুকে শিখান সতর্কতা

প্রতিনিধির নাম / ২৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 30, 2026

শিশুদের কাছে লুকোচুরি নিছক একটি খেলা। ঘরের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ানো, পর্দার আড়ালে বা টেবিলের নিচে লুকিয়ে পড়া—এসব তাদের কাছে আনন্দের। কিন্তু খেলতে গিয়ে শিশুরা কখনও এমন জায়গায় ঢুকে পড়তে পারে, যা মুহূর্তের মধ্যেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, বাবাকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় লুকোতে দেখে এক শিশু খেলাচ্ছলে সেই জায়গাতেই লুকিয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। পরে শিশুটিকে নিরাপদ অবস্থায় পাওয়া গেলেও, ততক্ষণে তার মায়ের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পোস্টটিতে দাবি করা হয়।

তবে ঘটনাটির নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র বা চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ স্পষ্ট নয়, তাই ২৫ সেকেন্ডের মধ্যে আতঙ্কের কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছিল—এমন দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে নেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু ঘটনাটি যে বিষয়টি সামনে আনে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—শিশুরা অনুকরণ করতে ভালোবাসে এবং তাদের খেলাধুলার জায়গা নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি।

শিশুরা কেন বড়দের অনুকরণ করে

শিশুর শেখার অন্যতম স্বাভাবিক উপায় হলো পর্যবেক্ষণ ও অনুকরণ। বাবা-মা কীভাবে কথা বলেন, কীভাবে কোনো কাজ করেন কিংবা খেলায় কী ধরনের আচরণ করেন—শিশু অনেক সময় সেগুলো নিজের মতো করে অনুসরণ করে। তাই বাবা-মায়ের কাছে যে জায়গাটি সাধারণ বা নিরাপদ মনে হচ্ছে, সেটিই শিশুর জন্য নিরাপদ হবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিশেষ করে লুকোচুরি খেলায় শিশুর কৌতূহল তাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে, যেখানে বড়দের পক্ষেও দ্রুত তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

লুকোচুরি খেলতে গিয়ে শিশুকে এমন জায়গায় ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে আটকে যাওয়ার, শ্বাসকষ্ট হওয়ার, পড়ে যাওয়ার বা কোনো ভারী বস্তু চাপা পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

পুরোনো ফ্রিজ বা এমন আবদ্ধ জায়গা: পুরোনো বা পরিত্যক্ত ফ্রিজ, ফ্রিজারের অংশ কিংবা বাতাস চলাচল সীমিত এমন কোনো আবদ্ধ জায়গা শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দরজা বন্ধ হয়ে গেলে ভেতর থেকে বের হওয়া কঠিন হতে পারে। তাই এমন যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করলে দরজা খুলে রেখে না দিয়ে নিরাপদভাবে সরিয়ে রাখা উচিত।

ওয়াশিং মেশিন ও বড় যন্ত্রপাতি: ওয়াশিং মেশিন, ড্রায়ার বা এ ধরনের বড় যন্ত্রের ভেতর শিশু ঢুকে পড়তে পারে। তাই এগুলো শিশুদের খেলাধুলার জায়গা নয়। ব্যবহার না করার সময়ও দরজা বা ঢাকনা বন্ধ রাখা এবং শিশুর নাগালের বাইরে রাখা নিরাপদ।

ট্রাঙ্ক, সুটকেস ও বড় বাক্স: শিশুর চোখে বড় ট্রাঙ্ক বা সুটকেস আদর্শ লুকানোর জায়গা মনে হতে পারে। কিন্তু ঢাকনা বন্ধ হয়ে গেলে ভেতর থেকে বের হওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে এমন বাক্সে লুকোতে দেওয়া উচিত নয়, যেগুলোর ঢাকনা বাইরে থেকে সহজে খোলা না যায়।

পানির ট্যাঙ্ক, কুয়া বা ছাদ: বাড়ির ছাদ, পানির ট্যাঙ্ক, খোলা জলাধার, কুয়া কিংবা সিঁড়ির ঝুঁকিপূর্ণ অংশ কোনোভাবেই খেলার জায়গা হওয়া উচিত নয়। এসব জায়গায় পড়ে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভারী আসবাবের পেছনে: আলমারি, ভারী ক্যাবিনেট বা অন্য বড় আসবাবের পেছনের সংকীর্ণ জায়গায় শিশু ঢুকে গেলে আটকে যেতে পারে। কোনো আসবাব উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও বিপদ ঘটতে পারে।

লুকোচুরি খেলায় আগে থেকেই নিয়ম করুন

লুকোচুরি খেলা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। বরং খেলার আগে শিশুকে কয়েকটি পরিষ্কার নিয়ম শেখানো যায়। কোথায় লুকোতে পারবে, আর কোথায় পারবে না—আগেই ঠিক করে দিন। যেমন, বিছানার পাশে, পর্দার আড়ালে বা খোলা ও সহজে নজরে আসে এমন জায়গায় লুকোনো যেতে পারে। কিন্তু আলমারির ভেতর, সুটকেস, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, ছাদ, পানির ট্যাঙ্ক কিংবা তালাবদ্ধ ঘরে লুকোনো যাবে না—এ নিয়ম শিশুকে বুঝিয়ে বলতে হবে। শুধু ‘ওখানে যেও না’ বলার বদলে কেন জায়গাটি বিপজ্জনক, সেটিও বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় বোঝানো ভালো।

শিশুকে খুঁজে না পেলে যা করবেন

খেলার সময় কয়েক মুহূর্তের জন্য শিশুকে চোখের আড়ালে পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। প্রথমে খেলার সম্ভাব্য ও নিরাপদ জায়গাগুলো দ্রুত পরীক্ষা করুন। এরপর বাথরুম, সিঁড়ি, বারান্দা, ছাদ, পানির উৎস, গাড়ি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গা পরীক্ষা করুন। দরজা-জানালা ও বড় বাক্স বা যন্ত্রপাতিও দেখুন। শিশু নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে দ্রুত পরিবারের অন্য সদস্য, প্রতিবেশী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় জরুরি সহায়তা বা পুলিশের সাহায্য নেওয়া উচিত।

আতঙ্কের সময় নিজেকে সামলানোও জরুরি

সন্তানকে হঠাৎ খুঁজে না পেলে বাবা-মায়ের ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আতঙ্কে সময় নষ্ট না করে দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে খোঁজা বেশি কার্যকর। তীব্র মানসিক চাপ শরীরে বিভিন্ন শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে—হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই হৃদ্‌রোগ বা অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে তীব্র চাপ বিশেষ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে শুধু আতঙ্কের কারণে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কারও মৃত্যু হয়েছে—এমন নির্দিষ্ট দাবি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সাধারণ তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। আকস্মিক মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

লুকোচুরি শিশুদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ, স্মৃতিশক্তি, স্থান সম্পর্কে ধারণা এবং সামাজিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন দক্ষতা চর্চার সুযোগ দিতে পারে। তাই খেলাটি বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। দরকার শুধু নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। খেলার জায়গা আগে দেখে নেওয়া, বিপজ্জনক স্থান বন্ধ রাখা এবং শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিরাপত্তার নিয়ম শেখানো—এই সামান্য সতর্কতাই বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শিশুর কৌতূহল থামানো নয়, সেটিকে নিরাপদ পথে পরিচালনা করাই অভিভাবকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর