বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন
Banner
আজকের শিরোনাম :
‘কোন ডিসেম্বরে আসবেন, ক্লিয়ার করেন’, শেখ হাসিনাকে দুলু স্বাস্থ্যখাত ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তি ও গবেষণায় বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী কিডনি রোগীদের জন্য বড় সুখবর, সব জেলা-উপজেলায় মিলবে ডায়ালাইসিস সেবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন নেই : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে : ডা. জুবাইদা রহমান শরীরের এই অঙ্গটি নীরবে আমাদের সুস্থ রাখতে কাজ করে যাচ্ছে   সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু নীরবে থাইরয়েড ক্যানসার বাড়ছে না তো? খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

সর্দি-কাশিতে শিশুকে মধু খাওয়ান? আগে জানুন এই বিপদ

প্রতিনিধির নাম / ২০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 30, 2026
সর্দি-কাশিতে শিশুকে মধু খাওয়ান? আগে জানুন এই বিপদ

শিশুর সর্দি-কাশি হলেই অনেক বাবা-মা ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা করেন। এর মধ্যে মধু অন্যতম। তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো থেকে শুরু করে শিশুর কান্না থামাতে চুষনিতে মধু লাগিয়ে দেওয়ার চলও রয়েছে অনেক পরিবারে। মিষ্টি স্বাদের কারণে শিশু সহজেই মধু গ্রহণ করে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে এই মিষ্টি খাবারটিই ডেকে আনতে পারে গুরুতর বিপদ।

এক বছরের আগে মধু নয়

অনেক বাবা-মা শিশুকে চিনি খাওয়ান না। মধুকে তারা চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া উচিত নয়।

কারণ, মধুর মধ্যে থাকা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। এই সমস্যাকে বলা হয় ইনফ্যান্ট বটুলিজম। এর ফলে শরীরে এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয়, যা শিশুর মাংসপেশি দুর্বল করে দিতে পারে।

কেন এতটা বিপজ্জনক?

শিশুর অন্ত্রে তৈরি হওয়া এই বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে শিশুর শরীরের বিভিন্ন অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এমনকি শ্বাস নেওয়ার পেশি দুর্বল হয়ে দমবন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

তাই শিশুর বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে মধু খাওয়ানোর ঝুঁকি কোনোভাবেই নেওয়া উচিত নয়।

মধু গরম করলেও কি নিরাপদ?

অনেকের ধারণা, মধু গরম করলে এর মধ্যে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধারণা ঠিক নয়। মধু গরম করলেও ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। তাই গরম করে বা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া নিরাপদ নয়।

মধু খাওয়ার পর যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

শিশুকে মধু খাওয়ানোর পর যদি পেশি দুর্বল হয়ে যায়, খাবার গিলতে সমস্যা হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয় কিংবা সামান্যতেই দ্রুত হাঁপিয়ে যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

সর্দি-কাশিতে কী করবেন?

শিশুর সর্দি-কাশি হলেই নিজের মতো করে মধু, তুলসীপাতার রস কিংবা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান খাওয়ানোর আগে সতর্ক হওয়া দরকার। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে মধু একেবারেই দেওয়া যাবে না।

শিশুর সর্দি-কাশি হলে ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক যে ওষুধ বা পরিচর্যার পরামর্শ দেবেন, সেটিই অনুসরণ করা উচিত।

শিশুর জন্য কোনো খাবার বা ঘরোয়া উপাদানকে প্রাকৃতিক বা স্বাস্থ্যকর মনে হলেই তা নিরাপদ—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বয়স অনুযায়ী কোন খাবার শিশুর জন্য নিরাপদ, তা জানাই সবচেয়ে জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর