রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন
Banner

সহজ কয়েকটি ব্যায়ামেই মুক্তি মিলবে জটিল রোগ ফ্যাটি লিভার থেকে

প্রতিনিধির নাম / ৭০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : April 25, 2025
সহজ কয়েকটি ব্যায়ামেই মুক্তি মিলবে জটিল রোগ ফ্যাটি লিভার থেকে

লিভার মানুষের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই অঙ্গটি নানা ধরনের জরুরি কাজের সঙ্গে যুক্ত। যকৃত উৎসেচক তৈরি, শরীর থেকে খারাপ পদার্থ বের করে দেয়া, হজমে সাহায্য করাসহ হাজারো কাজ করে লিভার। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গটির দিকে খেয়াল না রাখলে শরীর সহজেই বিগড়ে যায়।

আমাদের খারাপ জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাস লিভারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সচেতন থাকাটা অবশ্য কর্তব্য। তবে কে শোনে কার কথা! তাই তো ফ্যাটি লিভার ডিজিজের মতো অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের কথায়, লিভারে সামান্য ফ্যাট থাকে। তবে এই ফ্যাটের আধিক্য হলেই মুশকিল। সেক্ষেত্রে লিভার ফাইব্রোসিস এবং সিরোসিসের মতো অসুখ দেহে বাসা বাঁধে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার ডিজিজের তেমন কোনো উপসর্গ থাকে না।

তাই শুধু ওষুধ খেয়ে এই অসুখের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়। কয়েকটি সহজ ব্যায়ামের উপরও ভরসা রাখতে পারেন। তাতেই নিপাত যাবে এই রোগ। যেমন-

দিনে ২ মিনিট প্ল্যাঙ্ক

এই ব্যায়ামটি করতে পারলে শরীরের কোর স্ট্রেন্থ বৃদ্ধি পায়। সহজে বললে, গোটা দেহেরই ব্যায়াম হয়, শক্তি বাড়ে। এক্ষেত্রে উপুড় হয়ে শুরু পড়ুন। তারপর দুই হাত কনুই থেকে ভাঁজ করে শরীরের পাশে রাখুন।

এই অবস্থায় হাতের বলে দেহকে উপরের দিকে তুলুন। মাথা থেকে পা পর্যন্ত একদম একই লাইনে থাকবে। এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড স্থির থাকুন। এভাবে ৩ থেকে ৪ সেট করুন। এতে পেটের চর্বি গলে যাবে। এমনকি কমবে ফ্যাটি লিভারের প্রকোপ। দ্রুত ফল পাবেন।

অ্যাবডোমিনাল ক্রাঞ্চেস

এই ব্যায়াম করলে পেটের পেশি সুগঠিত হয়। ঠিকমতো অভ্যাস করলে সিক্স প্যাক অ্যাবসও পেতে পারেন। এক্ষেত্রে পা হাঁটু থেকে ভাঁজ করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। দুটি হাতকে মাথার পেছনে সাপোর্ট দিন। এই অবস্থায় পেটের বলে শরীরকে উপর দিকে তুলুন।

চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব মাথা হাঁটুর কাছে নিয়ে যাওয়ার। তারপর আবার আগের অবস্থায় ফেরত আসুন। এভাবে পরপর ১০ বার করুন। এই কৌশলে দিনে চারটি সেট করতে পারলে উপকার পাবেন হাতেনাতে। কমবে লিভারে জমে থাকা ফ্যাট।

রেজিস্টেন্স ট্রেনিং ও ওয়েট লিফটিং

ওয়েব মেড জানাচ্ছে, ফ্যাটি লিভারকে মাত দিতে গেলে আপনাকে ওয়েট ট্রেনিং বা রেজিস্টেন্স ট্রেনিং করতে হবে। এই ব্যায়ামের মাধ্যমে গোটা দেহ থেকে দ্রুত গতিতে মেদ ঝরে যায়। পেশি হয় সুগঠিত।

তাই প্রতিনিয়ত এই ব্যায়াম করা জরুরি। তবে এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ওজন তুলবেন। নিজের বুদ্ধিতে ব্যায়াম করতে গেলে বড়সড় চোট লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই একটু সচেতন হয়েই জিম করুন।

হাঁটাতেই কমবে ফ্যাটি লিভার

হাঁটার থেকে সহজ কোনো ব্যায়াম এখনও আবিষ্কার হয়নি। ৮ থেকে ৮০ সকলেই এই ব্যায়াম করতে পারেন। তবে হেলেদুলে হাঁটলে তেমন একটা লাভ পাবেন না। বরং আপনাকে ঘাম ঝরিয়ে হাঁটতে হবে। ঘাম ঝরলেই বুঝবেন লাভ হয়েছে।

দিনে মাত্র ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হেঁটে দেখুন, উপকার পাবেন। এরপরের বার লিভার এনজাইম টেস্ট করলে ফলাফল স্বাভাবিক আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তাই নিয়মিত হাঁটা চালু করুন। চাইলে জগিংও করতে পারেন।

সাইকেল চালানো এবং সাঁতারেও মন দিতে পারেন

সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটাও কিন্তু এরোবিক এক্সারসাইজ। এই দুই ব্যায়াম নিয়মিত করলে শরীর সুস্থ থাকে। মেদও ঝরে। তাই ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তরা নিয়মিত এই ব্যায়াম করুন। পাশাপাশি অবশ্যই তেল, মশলা, মিষ্টি, অ্যালকোহল খাওয়া ছাড়তে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর