দুধ ও ডিম দুটোই খুব উপকারী খাবার। নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের হাল ভালো হয়। বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হয়। এ কারণে অনেকেই দুধ পানের পর ডিম খেয়ে থাকেন। তবে এই উপকারী খাবার নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
কারও ধারণা দুধ ও ডিম একসঙ্গে খাওয়ার ফলে শরীরে উপকারের থেকে বরং ক্ষতি হয় বেশি। আবার কেউ কেউ বলে থাকেন, পেটের সমস্যা হয়। এমন নানা প্রশ্নের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্টি চিকিৎসক রুদ্রজিৎ পাল। এবার তাহলে দুধ ও ডিম খাওয়া সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।
পুষ্টিতে সমৃদ্ধ ডিম: অল্প দামে ডিমের মতো উপকারী খাবার খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। একটি ডিম থেকে প্রায় ৬.৩ গ্রামের মতো প্রোটিন মিলে। যা সহজেই গ্রহণ করে শরীর। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টেরের ঘাটতি পূরণে ডিম খাওয়া জরুরি। এছাড়া ভিটামিন এ, বি২, বি১২, বি৫, ফসফরাস, সেলেনিয়ামের মতো জরুরি ভিটামিন ও খনিজ উপাদানও রয়েছে। এ জন্য সুস্থ থাকতে প্রতিদিন একটি করে ডিম খাওয়া উচিত।
দুধ পান করতে হবে: বিশ্বের সব বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানীরা দুধ পানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই পানীয়ের প্রশংসা করে থাকেন তারা। কেননা, দুধে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন বি২, ভিটামিন এ, ভিটামিন ডি, কোলিন, ভিটামিন বি১২ থেকে শুরু করে একাধিক প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। আবার প্রোটিনও রয়েছে। এ জন্য প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই দুধ রাখতে হবে।
দুধ-ডিম কি একসঙ্গে খাওয়া উচিত: অনেকেই মনে করেন দুধ ও ডিম একসঙ্গে খাওয়ার ফলে পেট গরম হয়। তবে এই ধারণার পেছনে কোনো বিজ্ঞানসম্মত যুক্তি নেই। এ জন্য নিয়মিত ডিম ও দুধ একসঙ্গে খেলে শরীরে প্রোটিনসহ একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ হয়। তাই কোনো ভুল ধারণায় আতঙ্কিত না হয়ে প্রতিদিন সকালে ডিম ও দুধ একসঙ্গে খেতে পারেন।
কারা খাবেন না: দুধে ল্যাকটোজ নামক উপাদান রয়েছে। এই উপাদান সবাই সহ্য করতে পারেন না। এ জন্য অনেকেরেই দুধ পানে গ্যাস-অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা হয়। তাই এ ধরনের সমস্যা থাকলে তাদের যতটা সম্ভব দুধ পান এড়িয়ে চলতে হবে। একইভাবে ডিমে অনেকের অ্যালার্জি রয়েছে। এ জন্য যাদের এই খাবার খেলে গ্যাস-অ্যাসিডিটি ও ডায়রিয়ার সমস্যা হয়, শরীরে র্যাশ বের হয়, তাদের ডিম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
মানতে হবে নিয়ম: ডিম খেয়ে উপকার পেতে চাইলে অবশ্যই সিদ্ধ ডিম খেতে হবে। ভাজা বা হাফ বয়েল ডিম খেলে খুব একটা উপকার পাওয়া যায় না। বরং আরও একাধিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে ফ্যাটযুক্ত দুধের পরিবর্তে ফ্যাটলেস দুধ পানের অভ্যাস করতে হবে। এতে কোলেস্টেরল অনায়াসে নিয়ন্ত্রণে থাকবে।