রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ০৫:১১ পূর্বাহ্ন
Banner

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কি না, বুঝবেন যেভাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৯৪ বার দেখা হয়েছে
আপডেট : August 3, 2024
অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কি না, বুঝবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যা ছোট-বড় যেকোনো বয়সেই হতে পারে। তবে রোগটি শনাক্ত করতে বেশ খানিকটা সময় কেটে যায়। ফলে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করতে হয় শেষমেষ।

অ্যাপেনডিক্স আসলে কী

অ্যাপেনডিক্স প্রত্যেকেরই পেটের নীচের দিকে থাকে।

এটি শরীরের একটি অঙ্গ। অনেকটা থলের মতো এর আকৃতি। তবে অবাক করা বিষয় হলো, এই অঙ্গ শরীরের তেমন কোনো কাজে আসে না। তবে এটি শারীরিক সমস্যা বাড়ায়।
যেমন- অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগটি হলো এই অঙ্গের সমস্যা। বেশিরভাগ সময়ই এই রোগের ফলে কেটে বাদ দিতে হয় অঙ্গটি। যদি এক্ষেত্রে ঠিকমতো চিকিৎসা না হয়, তাহলে পেটে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। হতে পারে রক্তপাতও।

 বিশ্বের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই অঙ্গটি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে ‘সার্জিক্যাল ইমার্জেন্সি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। 

অ্যাপেন্ডিসাইটিস কেন হয়

সাধারণত অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ কেন হয় তার সঠিক কোনো কারণ নেই। তবে এর পেছনে কিছু জীবাণু থাকতে পারে। পেটে অসহ্য় ব্যথার অন্যতম কারণ হলো অ্যাপেন্ডিসাইটিস।

 

এই রোগ যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যা দেখা যায় বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে ৩০ বছর পর্যন্ত।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ

অ্যাকিউট অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগটিতে আক্রান্ত হলে নাভির কাছ থেকে ব্যথা শুরু হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ব্যথা তলপেটের নীচের দিকে পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ ছাড়াও আরো কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

১. শুরুতে তল পেটের ডান দিক থেকে ব্যথা শুরু হবে। নাভির চারিদিক থেকে ব্যথাটা ক্রমশ তল পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

২. অনেক সময় তলপেট ফুলে ওঠে। তবে শুরুর দিকে ব্যথা কম হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ব্যথা বাড়তে থাকে। খাবার খেলেই ব্যথা বেড়ে যায়।

৩. এ সময় জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রে জ্বর আসে না। শরীরের তাপমাত্রা হেরফের করে।

৪. খেতে ইচ্ছা করে না। হজমে সমস্যা হয়। সেখান থেকে শুরু হয় বমি।

৫. কিছুক্ষেত্রে রোগীর পেট খারাপও হতে পারে। হাঁটাচলা করলে, বসে ওঠার সময়, অথবা সিড়ি দিয়ে নামার সময় ব্যথা হতে পারে।

৬. ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

৭. অ্যাপেন্ডিক্স কোনো কারণে ফেটে গেলে সারা পেট জুড়ে মারাত্মক ব্যথা অনুভূত হয় এবং পেট ফুলে ওঠে।

পেটে ব্যথাসহ এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক প্রয়োজন মতো তলপেটের আলট্রাসাউন্ড টেস্ট, সিটি বা এমআরআই করতে বলতে পারেন। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে রোগটি সম্পর্কে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে কী করবেন

কয়েক বছর আগেও অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হতো অঙ্গটি। তবে এখন ল্যাপারোস্কোপির যুগ। এক্ষেত্রে পেট কাটার কোনো প্রয়োজন নেই।

মাত্র কয়েকটি ছোট ফুটো করেই অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন করা যায়। খুব সহজেই এক বা দুদিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে যান।

অনেক সময় শিশু বা বেশি বয়স্করা ব্যথার সঠিক বর্ণনাও দিতে পারে না। কিন্তু জটিলতা এড়াতে পেটে ব্যথা তীব্র ও স্থায়ী অথবা থেকে থেকে হলে রোগীকে শক্ত খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন বা মুখে খাবার দেয়া বন্ধ রাখুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির অন্যান্য খবর