অ্যাপেনডিক্স আসলে কী
অ্যাপেনডিক্স প্রত্যেকেরই পেটের নীচের দিকে থাকে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস কেন হয়
সাধারণত অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগ কেন হয় তার সঠিক কোনো কারণ নেই। তবে এর পেছনে কিছু জীবাণু থাকতে পারে। পেটে অসহ্য় ব্যথার অন্যতম কারণ হলো অ্যাপেন্ডিসাইটিস।
এই রোগ যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ সমস্যা দেখা যায় বয়ঃসন্ধি থেকে শুরু করে ৩০ বছর পর্যন্ত।
অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ
অ্যাকিউট অ্যাপেন্ডিসাইটিস রোগটিতে আক্রান্ত হলে নাভির কাছ থেকে ব্যথা শুরু হয়। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ব্যথা তলপেটের নীচের দিকে পৌঁছে যায়। এক্ষেত্রে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। এ ছাড়াও আরো কয়েকটি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
১. শুরুতে তল পেটের ডান দিক থেকে ব্যথা শুরু হবে। নাভির চারিদিক থেকে ব্যথাটা ক্রমশ তল পেটের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
২. অনেক সময় তলপেট ফুলে ওঠে। তবে শুরুর দিকে ব্যথা কম হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ব্যথা বাড়তে থাকে। খাবার খেলেই ব্যথা বেড়ে যায়।
৩. এ সময় জ্বর আসার সম্ভাবনা থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রে জ্বর আসে না। শরীরের তাপমাত্রা হেরফের করে।
৪. খেতে ইচ্ছা করে না। হজমে সমস্যা হয়। সেখান থেকে শুরু হয় বমি।
৫. কিছুক্ষেত্রে রোগীর পেট খারাপও হতে পারে। হাঁটাচলা করলে, বসে ওঠার সময়, অথবা সিড়ি দিয়ে নামার সময় ব্যথা হতে পারে।
৬. ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
৭. অ্যাপেন্ডিক্স কোনো কারণে ফেটে গেলে সারা পেট জুড়ে মারাত্মক ব্যথা অনুভূত হয় এবং পেট ফুলে ওঠে।
পেটে ব্যথাসহ এসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক প্রয়োজন মতো তলপেটের আলট্রাসাউন্ড টেস্ট, সিটি বা এমআরআই করতে বলতে পারেন। এর মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যাবে রোগটি সম্পর্কে।
অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে কী করবেন
কয়েক বছর আগেও অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সমস্যায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কেটে ফেলা হতো অঙ্গটি। তবে এখন ল্যাপারোস্কোপির যুগ। এক্ষেত্রে পেট কাটার কোনো প্রয়োজন নেই।
মাত্র কয়েকটি ছোট ফুটো করেই অ্যাপেনডিক্সের অপারেশন করা যায়। খুব সহজেই এক বা দুদিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে যান।
অনেক সময় শিশু বা বেশি বয়স্করা ব্যথার সঠিক বর্ণনাও দিতে পারে না। কিন্তু জটিলতা এড়াতে পেটে ব্যথা তীব্র ও স্থায়ী অথবা থেকে থেকে হলে রোগীকে শক্ত খাবার দেয়া থেকে বিরত থাকুন বা মুখে খাবার দেয়া বন্ধ রাখুন এবং দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।